বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় ভোটের সভা-সমাবেশে লোকজনের উপস্থিতিতে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।তিনি আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।সেকারণে তাঁর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।তিনি মনোনয়ন প্রাপ্তির পূর্বে গ্রাম থেকে গ্রামান্তর সমগ্র উপজেলা ভোটের মাঠ চষে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।উপস্থিত থেকেছেন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। বিশেষ করে ইসলামি জালসা,হরিবাসর,মসজিদের উন্নতি কল্পে অন্য যে,কোন প্রার্থীর তুলনায় প্রায় ডাবল দান খয়রাত করেছেন।অধিকাংশ জায়গায় তাঁকে প্রধান অতিথি করা হয়।এ ছাড়াও তফসিল ঘোষণার পূর্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন অসুস্থ ছিলেন।তার কিছুদিন পর বেগম জিয়া পরলোক গমন করেন।সেকারণে প্রতিতিটি ইউনিয়ন তাঁর সুস্থতায় এবং আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল করা হয়।প্রতিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন ডিএম জিয়া।এতে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের খুব কাছাকাছি যেতে পেরেছেন।প্রতিটি প্রোগ্রামে প্রায় ১-২০ হাজার লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সব চেয়ে বড় জনসভা হয়েছে হামিরকুৎসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।অপর দিকে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল বারী সরদার ইউনিয়ন ভিত্তিক সভা সমাবেশ করলেও,ওয়ার্ড ভিত্তিক সমাবেশ কম করতে দেখা গেছে।ডিএম জিয়া যখন হামিরকুৎসা মাঠে বিশাল প্রোগাম করেন,তার কিছুদিন পর আব্দুল বারী সরদার হাটগাঙ্গোপাড়া হাইস্কুল মাঠে একটি প্রোগ্রাম করেন।সেই প্রোগামে ডিএম জিয়ার জনসভায় লোকসমাগম বেশী হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।তবে আব্দুল বারী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,হাজী সমাবেশ,ধর্মসভায় সভাপতিত্ব করে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি এবার প্রথম ভোট করছেন।এছাড়াও বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন মাধ্যম অপ্রচার ছড়ানো হয়।সেসবের প্রতিবাদে সোচ্চার থেকেছেন ডিএম জিয়া।উপস্থিত করেছেন হাজার হাজার নেতা কর্মী।অন্য দিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত (জিএম কাদের)প্রার্থী ফজলুল এবং ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খাঁন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও প্রচার-প্রচারণায় তেমন সরব নন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,রাজশাহী- বাগমারা আসনে লড়াই হবে দ্বিমুখী।ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমানের সাথে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদারের।পূর্বের নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামির ভোট প্রায় ৪০ হাজার। অন্য দিকে বিএনপির ভোট ১ লক্ষাধিক।জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হবে তা সময় বলে দেবে।তবে এবারে জামায়াতে ভোট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অপর দিকে বিএনপির কর্মীদের ধরে রাখতে পারলে ধানের শীষের বিজয় সহজ হবে সূত্র জানায় ।সূত্র মতে,সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা জয় পরাজয়ে নিয়ামক হিসাবে কাজ করবেন।তাঁরা ৭১’র চেতনার কথা মাথায় রেখে এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এমনটি জানা গেছে কিছু সনাতনী ভোটারের মাধ্যমে।বাগমারায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়,্তাঁরা কোন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে থাকতে চান না।আগামীতে তাঁরা মধ্যমপন্থীদের নিরাপদ ভাবছেন। সার্বিক বিবেচনায় সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে প্রাথমিক ভাবে এগিয়ে রাখছেন।