নুরুল আলম
সবুজ মাঠ, ধানক্ষেত কিংবা ঝোপঝাড়ে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা ছোট্ট প্রাণীটি—ঘাসফড়িং। দেখতে সাধারণ হলেও প্রকৃতির ভারসাম্যে এর ভূমিকা অসাধারণ। গ্রামবাংলার জীবনে ঘাসফড়িং যেন এক নীরব সঙ্গী, যে নিজের অস্তিত্ব দিয়ে জানান দেয় পরিবেশের সুস্থতা।
ঘাসফড়িং মূলত তৃণভোজী পোকা। ঘাস, ধানের পাতা ও নানা গাছের নরম অংশ খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে এদের এই খাদ্যাভ্যাসই পরিবেশে এক ধরনের প্রাকৃতিক ছাঁটাইয়ের কাজ করে। অতিরিক্ত গাছপালা নিয়ন্ত্রণে রেখে মাঠ ও বনভূমির স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়তা করে ঘাসফড়িং।
প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলেও ঘাসফড়িং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকি ও কিছু ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রধান খাদ্য এই পোকা। অর্থাৎ ঘাসফড়িং কমে গেলে তার প্রভাব পড়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রে। পরিবেশবিদদের মতে, একটি এলাকায় ঘাসফড়িংয়ের উপস্থিতি সেই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের সূচক হিসেবেও ধরা যায়।
বাংলার লোকজ সংস্কৃতিতেও ঘাসফড়িংয়ের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বর্ষার আগমনী বার্তা, মাঠের উর্বরতা কিংবা প্রকৃতির প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক হিসেবে ঘাসফড়িং বহু কবিতা, ছড়া ও লোককথায় উঠে এসেছে। শিশুদের খেলায়, গ্রামের বিকেলের গল্পে ঘাসফড়িং যেন প্রকৃতির এক চেনা মুখ।
তবে আধুনিক কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ঘাসফড়িংসহ অনেক উপকারী পোকা হুমকির মুখে পড়ছে। এতে শুধু একটি প্রজাতিই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো পরিবেশব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের মাধ্যমেই ঘাসফড়িংসহ প্রকৃতির এই নীরব সৈনিকদের রক্ষা করা সম্ভব।
ছোট্ট শরীর, কিন্তু বিশাল ভূমিকা—ঘাসফড়িং আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণই গুরুত্বপূর্ণ। সবুজ পৃথিবী টিকিয়ে রাখতে এদের অস্তিত্ব রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব।