শরীয়তপুর প্রতিনিধি
এবি এম জিয়াউল হক টিটু
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া–সখিপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে নড়িয়া ও সখিপুরবাসীর জন্য একটি সমন্বিত ও বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
সোমবার রাতে সখিপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষাখাতে নড়িয়া সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, নড়িয়ায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া সখিপুরের বালাবাজারে নিজ অর্থায়নে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও একটি মেরিন একাডেমি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি। নড়িয়া ও সখিপুরের ২৩টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় মোট ২৪টি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ আলুবাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত সম্প্রসারণ, নড়িয়া ব্রিজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, নওপাড়া–চরাত্রা–কাচিকাটা সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণ এবং বালার বাজার ট্রলার ঘাটে নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পুনরায় চালু করে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, দক্ষিণ তারাবুনিয়ায় একটি হাসপাতাল স্থাপন, গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ প্রসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং একটি আধুনিক নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া পদ্মা নদীর ডান তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সখিপুরকে উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়ন, নড়িয়া–সখিপুরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং টার্মিনাল স্থাপন এবং রপ্তানিমুখী ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
কৃষি ও মৎস্য খাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান কিরন বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবেন। মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও সমাজের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। পাশাপাশি নড়িয়া–সখিপুরে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ, অবৈধ জমি দখল বন্ধ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদারকির জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রেস কনফারেন্স শেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ও সমর্থন কামনা করেন এবং নির্বাচিত হলে নড়িয়া–সখিপুরবাসীর অধিকার আদায়ে জাতীয় সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।