এম মোবারক হোসেন, পঞ্চগড়
তেঁতুলিয়াতে পঞ্চমবারের মতো ফুটছে রাজকীয় টিউলিপ
কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়াঘেরা সীমান্তবর্তী দর্জিপাড়া গ্রামে শীতের হিমেল হাওয়ায় দুলছে নেদারল্যান্ডসের রাজকীয় টিউলিপ।
দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়া এখন যেন রূপকথার এক বর্ণিল অধ্যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়াঘেরা সীমান্তবর্তী দর্জিপাড়া গ্রামে শীতের হিমেল হাওয়ায় দুলছে নেদারল্যান্ডসের রাজকীয় টিউলিপ। পঞ্চমবারের মতো এখানে বাণিজ্যিক ও পর্যটনভিত্তিক টিউলিপ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তারা।
এ বছর টিউলিপ উদ্যানে চাষ হচ্ছে চার প্রজাতির ছয় ভিন্ন রঙের টিউলিপ – লালিবেলা, ডেনমার্ক, স্ট্রং গোল্ড ও মিস্টিক ভ্যান ইজক। গত বছর ৯ প্রজাতির চাষ হলেও এবারও রঙের বৈচিত্র্যে কোনো কমতি নেই। ১০ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা বাল্ব রোপণ করা হয়। মাত্র ২০-২৫ দিনের মধ্যেই গজিয়ে ওঠে চারা, আর এখন বাগানজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে বাহারি ফুল।
জানা যায়, টিউলিপ মূলত লিলিয়াসিয়ে পরিবারভুক্ত বসন্তকালীন ফুল, যার বৈজ্ঞানিক নাম (Tulipa) বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫০ প্রজাতির এই ফুল নেদারল্যান্ডসের জাতীয় প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। তবে শীতপ্রধান তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া এ ফুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হয়ে উঠেছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), যারা পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান জানান, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্যোক্তা মোছা. রইসুন আক্তার বলেন, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুমে প্রত্যেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এই আয় দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে, সন্তানদের লেখাপড়াও চালাতে পারছি, বলেন তিনি।
বসন্তের এই সময়ে ফুল ফুটতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করছেন দর্জিপাড়ায়। অনেকে মহানন্দা নদীর পাড়ে বনভোজনের পাশাপাশি টিউলিপ বাগান ঘুরে দেখছেন, ছবি তুলছেন, আবার ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলও সংগ্রহ করছেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, ভিনদেশি এই বাহারি টিউলিপ বাগান তেঁতুলিয়ার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
প্রান্তিক মানুষের শ্রম আর ভিনদেশি ফুলের মেলবন্ধনে দর্জিপাড়া এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘টিউলিপ গ্রাম’ হিসেবে। হিমালয়ের ছায়ায় টিউলিপের রঙিন বিস্ময় দেখতে চাইলে এখনই ঘুরে আসতে পারেন উত্তরের এই সীমান্ত জনপদে।