ধর্ম ডেস্ক
সাহরি কখন ও কীভাবে খাওয়া সুন্নত?
পবিত্র রমজানে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষরাতে সুবহে সাদিকের আগে যে পানাহার করা হয়, তাকেই ‘সাহরি’ বলা হয়। এটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং একটি বরকতপূর্ণ ইবাদত। নবীজি (স.) উম্মতকে সাহরি খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন।
সাহরির ফজিলত, সময় এবং সঠিক নিয়ম সম্পর্কে শরিয়তের নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
সাহরির ফজিলত
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম: ১/৩৫০)। অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’ (মুসলিম: ১০৯৬)
কীভাবে সাহরি খাওয়া সুন্নত
সাহরি পেট ভরে অনেক কিছু খেতে হবে এমন নয়। ক্ষুধা না থাকলেও বরকত ও সুন্নতের অনুসরণে সামান্য কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত।
সামান্য পানাহার: রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি করো। কারণ যারা সাহরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ)
খেজুরের প্রাধান্য: মুমিনের সাহরির তালিকায় খেজুর রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিসে মুমিনের শ্রেষ্ঠ সাহরি হিসেবে খেজুরকে অভিহিত করা হয়েছে। (আবু দাউদ: ২৩৪৫)
অতিরিক্ত আহার বর্জন: সাহরিতে উদরপূর্তি করে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। এতে ইবাদতে অলসতা আসতে পারে এবং শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।
আরও পড়ুন: আজান দেওয়া অবস্থায় সেহেরি খাওয়া যাবে?
কখন খাওয়া সুন্নত
সাহরি খাওয়ার সময় হলো মধ্যরাতের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। তবে একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া সুন্নত ও মুস্তাহাব।
বিলম্বে সাহরি: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার করতে এবং শেষ সময়ে সাহরি খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত)
আজান ও সাহরির ব্যবধান: সাহাবায়ে কেরাম বিলম্বে সাহরি খেতেন। হজরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, সাহরি খাওয়া ও ফজরের আজানের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি আয়াত তেলাওয়াত করার মতো সময়ের ব্যবধান রাখা সুন্নত। (বুখারি: ৫৭৫)
সতর্কতা: সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়—এতটা দেরি করা মাকরুহ। তবে যতক্ষণ সময় আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ততক্ষণ খাওয়া জায়েজ। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যতক্ষণ সন্দেহ থাকে ততক্ষণ খেতে থাকো, সন্দেহ দূর হয়ে গেলে (নিশ্চিত ভোর হলে) খাওয়া বন্ধ করো।’
আগে খাওয়া হয়ে গেলে করণীয়
যদি কোনো ব্যক্তি অনেক আগে সাহরি খেয়ে ফেলেন, তবে সময়ের শেষ দিকে সামান্য পানি বা একটি খেজুর খেয়ে নিলেও তিনি সাহরির বিশেষ ফজিলত ও বরকত লাভ করবেন। (হেদায়া: ১/১৮৬)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের প্রতিটি আমল সুন্নাহ অনুযায়ী যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।