জিহাদুল ইসলাম জিহাদ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার প্রথম প্রহরে (১২টা ১ মিনিটে) কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী, পিপিএম।
এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি -বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাষা শহিদের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। পরে শহিদদের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন শেষে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিনব্যাপি এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিলো প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনাসভা, পুরস্কার বিতরণ, সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি নিয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে ১৯৫২ সালের স্মৃতিময় ইতিহাস তুলে ধরেন ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষাসৈনিক সামিউল হক নান্টু। এসময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী পিপিএম, ডেপুটি সিভিল সার্জন আ ন ম মোহাইমেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসমাইল হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ প্রমুখ।
পরে দিবসের সাথে সংগতিপূর্ণ চিত্রাংকন, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।