মমতা মজুমদার
হতাশা আমাদের জীবনকে গ্রাস করে বার বার। বিরহ-ব্যথা আর নিছক সুখের স্রোতে এগিয়ে চলছে তবুও সবার জীবন। একরকম যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে কেউ হয় বিজয়ী আর কেউ হয় পরাজিত। জীবন যুদ্ধে হার মানা আর এই যুদ্ধে লড়ে জয়ী হওয়া দুটোই কিন্তু এক নয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কষ্টকর। হতাশাকে দূরে ছুঁড়ে কখনো কখনো এগিয়ে যাওয়া যায় না। থমকে যায় মনের গতি আর আমাদের পদযুগল। কষ্টকে জয় করতে হলে জীবনের অনেকগুলো সুখ বিসর্জন দিতে হয়। অনেক সময় জীবন থেকে হারিয়ে ফেলতে হয়। জয় আর পরাজয়ের খেলায় কাটছে আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত।
এই জীবন বড্ড ত্যাড়াবাঁকা কারো কারো ক্ষেত্রে। সুখের জন্য যদি কখনো দৌঁড়ান, দেখবেন জীবন থেকে অনেক হাসি আনন্দের সুন্দর কিছু মুহূর্ত বিলিন হয়ে গেছে নীরবে। যা হয় তো টেরও পাবেন না আপনি। আবার দুঃখদের ধুয়ে মুছে একবারে বাঁচাও কিন্তু পসিবল না। অর্থ্যাৎ আপনার চারপাশ ঘিরে থাকা দুঃখ-কষ্ট, বিরহবেদনা আর হতাশাদেরকে নিয়েই বাঁচতে হবে আপনাকে। যারা বিজয়ী তাদের সাফল্যের মূল্য এখানেই। আর যারা পরাজিত তারা মাঝ পথেই ক্লান্ত হয়ে আশা ছেড়ে দেন। সব মিলিয়ে তারা এগিয়ে যেতে চাইলেও তখন এগিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
জয়ের নেশায় তারা জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে দ্বিধা করেন না। অনেক বেশি সাহস নিয়ে এগিয়ে যান তারা। আমাদের জীবনের লক্ষ্য আমরা ঠিক করলেও সে লক্ষ্যে পৌঁছার মতো আমাদের সাহস কম। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সাথে যখন নিজে কথা বলি, তখন মনে করি আমিও পারবো। আমি আগামীকাল থেকে এই এই কাজগুলো করব। তখন আমাদের মেন্টালিটি একদম ফ্রেশ থাকে। মনে যা আসে, তা নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তা করি বলেই হয়তো এমনটা মনে হয় আমাদের। যেন মনে হয় আমি চেষ্টা করলেই কাজগুলো আমার জন্য সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু না, পরক্ষণেই দেখা যায় তার উল্টো। আমাদের আর কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এক গবেষণায় ওঠে আসে, যারা জয়ী তারা কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর কৌশল অবলম্বন করে তাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায় নিজ লক্ষ্যে জয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। হতাশাকে পায়ে ধলে সামনে এগিয়ে গেছেন। তাদের জন্য উপরওয়ালাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কাউকে উপলক্ষ করে। আসলে যারা সফল হোন, তাদের সে সফলতার পিছনে যাদের হাত থাকে, সেটা হয় তো সম্মুখে আর আসে না। সবাই তখন তার সফলতা টা-ই শুধু দেখে। আমাদের জীবনের সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে আমরা পৌঁছাতে গেলে, আমরা না পাই সাহায্যের সে বিশেষ কোনো হাত। ফলে নিজেদের মধ্যে নিজেরাই হতাশায় জর্জরিত হয়ে পড়ি। হতাশা তখন আমাদের আরো বেশি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে।
আমি আমার নিজেকে দিয়েই তার প্রমাণ পাচ্ছি। যদিও এখনো সফল হতে পারিনি জীবনে। কিন্তু সবসময় ভেঙে পড়া কিছু মানুষের জীবন থেকে নেওয়া গল্পের পটভূমি লিখতে সচেষ্ট হয়েছি। সময় মানুষের উত্তম একজন শিক্ষক। আর সে শিক্ষক থেকে আমি রোজ শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করে চলেছি। জীবনের পাতা থেকে যতটুকু শিখতে পেরেছি, তা হয়তো আমার একাডেমিক বই থেকেও পাইনি। মানুষ কখনো কখনো হার স্বীকার করে, অবশেষে হঠাৎ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় হতাশাকে সঙ্গী করে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসী মনোভাব রাখা কতটা জরুরি, তা সময় সাপেক্ষে বুঝতে পারবেন। হতাশা থেকে বের হয়ে আসুন। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিন প্রতিদিন। জীবন সুন্দর, কখনো আত্মহননের কল্পনাও করতে যাবেন না কিন্তু। মনে রাখবেন, আপনার জীবন আপনার কাছে ভীষণ মূল্যবান। ভালো থাকবেন সবসময়।