1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
অবহেলায় ধুঁকছে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত বিন্যাফর - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা মদ বিক্রেতা ও পানকারীদের প্রতি ইসলামের কঠোর বার্তা শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম

অবহেলায় ধুঁকছে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত বিন্যাফর

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত বিন্যাফরের এই ঘর আর পার্শ্ববর্তী এলাকাটি আগাছায় ছেয়ে গেছে। ছবি: খবরের কাগজ
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষের নিকটবর্তী এলাকা বিন্যাফর। এখানে কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং পদচারণা ছিল মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর। কিন্তু তার স্মৃতিবাহী এই স্থানটি আজ অবহেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছে। তার বসবাস করা একটি ঘর পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এখানে ২০১৩ সালে তার নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেটির অবস্থাও নড়বড়ে।

স্থানীয়রা বলেন, ‘ভাসানী আমাদের অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। কিন্তু সেই স্মৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ভাসানী হুজুর অবস্থান করেছিলেন।’

১৯৭০ সালের ৬ থেকে ৮ আগস্ট বন্যা সমস্যার সমাধানের দাবিতে অনশন পালন করেন ভাসানী। এরপর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হয়। দুর্গত এলাকায় ত্রাণের কাজে অংশ নেওয়ার জন্য ন্যাপের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানের এক জনসভায় স্বাধীন পূর্ব বাংলার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের জন্য তার প্রতি আহ্বান জানান। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভাসানী ভারত চলে যান এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।

এর আগে ২৫ মার্চ রাতে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের বিন্যাফর এলাকায় তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে টাঙ্গাইল ছেড়ে তার পিতৃভূমি সিরাজগঞ্জে চলে যান। পাকিস্তানি বাহিনী তার বিন্যাফরের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। মওলানা ভাসানী মোজাফফর ন্যাপের নেতা সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাযোগে ভারত অভিমুখে রওনা হন। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মইনুল হক চৌধুরীর সাহায্যে মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলাম ১৫/১৬ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান অতিক্রম করে আসামের ফুলবাড়ী নামক স্থানে উপস্থিত হন। পরে তাদের হলদীগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হয়। এরপর মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলামকে বিমানে করে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কলকাতায় পার্ক স্ট্রিটের কোহিনুর প্যালেসের ৫ তলার একটি ফ্ল্যাটে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে মওলানা ভাসানী একটি বিবৃতি প্রদান করেন, যা ভারতীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া মওলানা ভাসানী চীনের নেতা মাও সে তুং, চৌ এন লাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তারবার্তা পাঠিয়ে তাদের অবহিত করেন যে পূর্ববঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপকহারে গণহত্যা চালাচ্ছে। পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে অনুরোধ করেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নিক্সনের প্রতি আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল মওলানা ভাসানী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

৩১ মে মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ দখলদার বাহিনীর সঙ্গে জীবনমরণ সংগ্রামে লিপ্ত। তারা মাতৃভূমি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের মানুষ এই সংগ্রামে জয়লাভ করবেই।

৭ জুন মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চল আজ লাখো বাঙালির রক্তে স্নাত এবং এই রক্তস্নানের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীনতা আসবে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। টাঙ্গাইলবাসী এ সম্পর্কে জানেন। জানেন বিন্যাফরের মানুষজনও, সেই সময়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন ও দেখেছিলেন।

ভাসানী হুজুরের বিন্যাফরের ঘরটির বিষয়ে এলাকার তাঁত শ্রমিক আমিনুর বলেন, ভাসানী হুজুরের এই ঘরটির বিষয়ে যতটুকু জানি তা হলো, ১৯৭১ সালের সেই দিনটি ছিল রবিবার। বিন্যাফর বাজারে হাট বসেছে। সবাই হাটবাজার করতে ব্যস্ত। ঠিক ওই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসে এই বসতঘরটি আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এর অনেক পরে ২০১৩ সালে এখানে একটি নূরানী মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়। এই মাদ্রাসায় প্রতিদিন বিকেলে এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে কোরআন পড়ানো হয়।

স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুল হামিদ বলেন, বিন্যাফর অঞ্চলে ভাসানী সাহেবের বেশ কিছু স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করলে নতুন প্রজন্ম তার সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে পারত। কিন্তু এখন এসব দেখার কেউ নেই। সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বিন্যাফরের আরিফ হোসেন বলেন, অনেকে জানেনই না কোন স্মারকগুলো ভাসানীর স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আজও রয়ে গেছে। এলাকাটা ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে। এখানে একটা স্মৃতিচিহ্ন বা ফলক স্থাপন করা হলে মানুষ জায়গাটার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারত।

একসময় ভাসানীর এই ঘরটি দেখাশোনা করতেন তার ভক্ত হোসেন আলী। তিনি ২০১৩ সালে মারা গেছেন। এই ঘরের পাশেই তার কবর।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এলাকায় যদি ভাসানীর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এখানে দর্শনার্থীরা আসবেন। এলাকার উন্নতিও ঘটবে। কিন্তু বারবার বলার পরও কেউ পদক্ষেপ নেননি।

নারী উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার বলেন, ভাসানীর মতো নেতার স্মৃতি অযত্নে পড়ে আছে, এটা খুবই দুঃখের। মেয়েদের অংশগ্রহণ, শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, এসব বিষয়ে তার যে চিন্তা ছিল, নতুন প্রজন্ম সেসব জানার সুযোগ পাচ্ছে না।

এলাকার রিয়াদ খান বলেন, ‘আমরা চাই প্রশাসন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করুক। ভাসানীর বৈঠকস্থল, চারণভূমি এবং ঐতিহাসিক পথগুলো সংরক্ষণ করুক।’

এই বর্ষীয়ান দেশবরেণ্য মজলুম জননেতা ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার সন্তোষে পীর শাহজামান দীঘির পাশে সমাধিস্থ করা হয়। আজ সোমবার তার মাজারে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে তার মৃত্যুবার্ষিকী। শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও পরিবারের লোকজন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংরক্ষণ করা গেলে ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত বিন্যাফর পর্যটনের নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট