রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে পালিত হচ্চে হরতাল। ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটি জেলা পরিষদের ২১ নভেম্বর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে আজ কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের ডাকে সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টার হরতাল চলছে।
জেলা শহর থেকে বন্ধ রয়েছে সড়ক ও নৌযান। খোলেনি দোকানপাট। শহরের একমাত্র গণপরিবহন, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
মূলত নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
ভোরের আলো ফুটতেই হরতাল আহ্বানকারী কোটাবিরোধী ঐক্যজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থী নেতাকর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক বন্ধ করে রেখেছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে টায়ার জ্বালানো ও গাছের গুঁড়ি ফেলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। বিশেষ করে শহরের বনরূপা, দোয়েলচত্বর, তবলছড়ি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, কলেজগেইট ও শহরের প্রবেশমুখ মানিকছড়িতে আন্দোলনকারীদের জোরালো অবস্থান দেখা গেছে।
এদিকে রাঙামাটি শহর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের সঙ্গে জেলার ৮ উপজেলার সবধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে।
বন্ধ রয়েছে সব ধরনের দোকানপাট ও মার্কেট। হরতালের কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজ, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজকের নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করেছেন কর্তৃপক্ষ।
তবে শহরের সেনাবাহিনী পরিচালিত লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষা চলায় সকাল ৮টায় শিক্ষার্থী পরিবহনে কিছুটা শিথিল করা হয়।
হরতালকে কেন্দ্র করে জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া সেনাবাহিনী ও বিজিবির বিশেষ টহল টিম মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে।