লাইফস্টাইল ডেস্ক
সুজি আমাদের রান্নাঘরের এক পরিচিত উপাদান। আর এই সুজি দিয়েই তৈরি হয় হালুয়া, উপমা, পাস্তা থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক পদ।
সুজি আমাদের রান্নাঘরের এক পরিচিত উপাদান। আর এই সুজি দিয়েই তৈরি হয় হালুয়া, উপমা, পাস্তা থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক পদ। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ উপাদানটির রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ? সুজি তৈরি হয় গম থেকে, যা প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্কে ভরপুর। এটি শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরকে শক্তি দেয়। খাদ্যতালিকায় সুজি রাখার গুরুত্ব জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।
সুজি খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা
১. দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়
সুজিতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে হজম হয়, ফলে সারাদিন ধরে শক্তি দেয় এবং হঠাৎ ক্লান্তি বা এনার্জি ক্র্যাশ থেকে রক্ষা করে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
সুজিতে থাকা প্রোটিন ও ফাইবার তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ায়, ফলে অপ্রয়োজনীয় খিদে কমে। কম ক্যালোরি থাকায় এটি ডায়েট মেনে চলা ব্যক্তিদের জন্যও আদর্শ।
৩. হজমশক্তি বাড়ায়
সুজির ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। নিয়মিত খেলে হজম প্রক্রিয়া আরও উন্নত হয়।
৪. হার্টের জন্য উপকারী
অনেকেই জানেন না সুজি হার্টের স্বাস্থের জন্য ভালো। সুজি কম কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত। এতে থাকা সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
সুজির সেলেনিয়াম ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে, প্রদাহ কমায় ও ক্যানসারসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
৬. হাড়কে মজবুত করে
সুজিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনকে মজবুত করে এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
জিঙ্ক, ফোলেট ও সেলেনিয়ামের সমন্বয় শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, ক্ষত সারাতে সাহায্য করে এবং নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
৮. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে
সুজিতে থাকা থায়ামিন ও ফোলেট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এগুলো মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্পষ্টতা বাড়ায়।
৯. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে
ধীরে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেটের কারণে সুজি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে দেয় না। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী অবশ্যই সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
১০. পেশি গঠনে সহায়ক
সুজি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, যা শরীরের টিস্যু পুনর্গঠন ও পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের পর এটি একটি পুষ্টিকর বিকল্প হতে পারে।
সুজি শুধু সুস্বাদু নয়, বরং এটি একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান যা সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। তবে রান্নায় অতিরিক্ত তেল, ঘি বা চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। যাদের গ্লুটেন অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগ আছে তাদের সুজি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করাই ভালো।
সূত্র: এনডিটিভি