অনলাইন ডেস্ক
প্রাচীনকাল থেকেই দুধ ও খেজুর তাদের অসাধারণ পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। যখন এই দুটি সুপারফুড একত্রিত হয়, তখন তাদের উপকারিতা আরও বেড়ে যায়। দুধ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিনের একটি চমৎকার উৎস, খেজুর ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। দুধের সঙ্গে খেজুর খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আজকের আমাদের এই আয়োজন।
১. হাড় মজবুত করে
দুধ ক্যালসিয়ামের একটি দারুণ উৎস, যা হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। খেজুরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত দুধ ও খেজুর খেলে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ প্রতিরোধ করা যায় এবং হাড় মজবুত থাকে।
২. হজম শক্তি বাড়ায়
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। দুধের সাথে খেজুর মিশিয়ে খেলে তা হজমের জন্য আরও সহায়ক হয়।
৩. শক্তি বৃদ্ধি করে
খেজুর প্রাকৃতিক চিনির একটি বড় উৎস, যা দ্রুত শক্তি যোগায়। দুধের প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই সকালে বা ব্যায়ামের পর দুধ ও খেজুর খেলে শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
৪. রক্তাল্পতা দূর করে
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। আয়রন হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুধের সাথে খেজুর খেলে শরীরের আয়রনের চাহিদা পূরণ হয় এবং রক্তাল্পতার লক্ষণগুলো কমে।
৫. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
খেজুরে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও, খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তা হৃদপিণ্ডের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। দুধ ও খেজুরের এই মিশ্রণ হৃদপিণ্ডের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৬. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
দুধ ও খেজুরে থাকা ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এগুলো ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খেজুর এবং দুধ উভয়ই বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি যোগায়।
৮. ওজন বাড়াতে সাহায্য করে
যারা ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য দুধ ও খেজুর একটি চমৎকার বিকল্প। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং দুধে থাকা প্রোটিন ও ফ্যাট স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
কীভাবে খাবেন?
দুধ ও খেজুর খাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, কয়েকটি খেজুর দুধের সাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে স্মুদি তৈরি করা। আপনি চাইলে খেজুরগুলো সারারাত দুধে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন।
সতর্কতা:
যদিও দুধ ও খেজুরের অনেক উপকারিতা রয়েছে, তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের খেজুর খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে।