নিজস্ব প্রতিবেদক।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরী হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত আকিজ বিড়ি জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী লিমিটেডের কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানায়, সরকারের মোটা অংকের টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল বিড়ি বিক্রি করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরী হাট এলাকার কয়েকটি হোলসেলস দোকানে অভিযান চালায় স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী লিমিটেডের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন চায়ের দোকানে কম দামে আকিজের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের নকল বিড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, চোরাকারবারি চক্র আকিজ ব্র্যান্ডের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে প্যাকেট তৈরি করছে। তবে আসল আকিজ বিড়ির মান, গন্ধ ও কার্টনের প্রিন্টের সাথে নকল পণ্যের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তবুও সাধারণ অনেক ক্রেতা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকদিন ধরে বাজারে অচেনা সরবরাহকারীরা কম দামে “আকিজ বিড়ি” সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় বেশ কয়েকটি প্যাকেট খুলে দেখা হলে নকলের প্রমাণ মেলে।
এদিকে, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রেতাদের স্বাস্থ্যেরও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নকল উৎপাদনকারী চক্র শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।
এসময় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল এর দোকান থেকে পাঁচ হাজার (৫,০০০) শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত আকিজ বিড়ি উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে জব্দকৃত নকল বিড়ি জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী লিমিটেডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক (ইনচার্জ) মো. জসিম উদ্দিন জানান, কিছু অসাধু চক্র সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিড়ি ও সিগারেটে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে কম দামে বিড়ি বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব হারাচ্ছে। নকল বিড়ি বন্ধে পুলিশ, র্যাব, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহযোগীতা কামনা করছেন
হাটহাজারীর বিভিন্ন বাজারে ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।