হাবিবুর রহমান সুজন।
বর্তমান ব্যস্ত ও স্বার্থনির্ভর সমাজে প্রকৃত বন্ধুত্ব যেন দিন দিন বিরল হয়ে উঠছে। ঠিক সেই বাস্তবতার মাঝেই ব্যতিক্রম হয়ে উঠে এসেছে মোহাম্মদ টিপু সুলতান ও নজরুল করিমের বন্ধুত্বের গল্প—যা এখনো মানবিকতা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দুই বন্ধুর পরিচয় স্কুল জীবন থেকে। একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, একই বেঞ্চে বসা, একসাথে খেলা, পড়ালেখা আর দুষ্টুমি—শৈশবের প্রতিটি অধ্যায়েই তারা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। ছোট থেকেই একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে মিলেমিশে বড় হওয়া এই দুই বন্ধুর সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে ভাইয়ের বন্ধনে।
বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝা যায় ছোট ছোট ঘটনায়। একদিন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট শেষ হয়ে গেলে একজন আরেকজনকে বলে ওঠেন—
“ভাই, চারটা আইয়ো আবার ইন্টারনেটে চলে গেল!”
এই কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে নির্ভরতা, নির্দ্বিধায় ভাগাভাগি করার মানসিকতা ও অকৃত্রিম সম্পর্ক।
শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, সমাজের প্রতিও তাদের দায়বদ্ধতা চোখে পড়ার মতো। মানবিক ও সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড, খেলাধুলার আয়োজন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের কাজের সহযোগিতা—সবখানেই এই দুই বন্ধু একসাথে। কারো বিপদে আগে-পিছে না ভেবে এগিয়ে যাওয়াই যেন তাদের বন্ধুত্বের মূল শিক্ষা।
বর্তমান সময়ে যেখানে বন্ধুত্ব অনেক ক্ষেত্রে স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ, সেখানে টিপু সুলতান ও নজরুল করিম প্রমাণ করেছেন—বন্ধুত্ব মানে শুধু একসাথে সময় কাটানো নয়, বরং একে অপরের শক্তি হয়ে দাঁড়ানো। তাদের সম্পর্ক এখনো অনেক কিছু হার মানিয়ে দেয়—বিশ্বাস, ত্যাগ আর মানবিকতার মানদণ্ডে।
এই দুই বন্ধুর গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। সত্যিকারের বন্ধুত্ব যে সময়ের সাথে আরও দৃঢ় হয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়—মোহাম্মদ টিপু সুলতান ও নজরুল করিম তার জীবন্ত উদাহরণ।