হাবিবুর রহমান সুজন।
সাজেকের চিলেকোঠা রেস্টুরেন্ট বিপর্যয়ের পরও অদম্য এক মানবিক অভিযাত্রা
সাজেকের পাহাড়ে আগুন লেগেছিল কটেজ ও রেস্টুরেন্টে, কিন্তু সে আগুনে পুড়ে যায়নি একটি হৃদয়, একটি আদর্শ, একটি মানবিক দর্শন। চিলেকোঠা রেস্টুরেন্ট পুড়ে যাওয়ার ঘটনার পর অনেকে যেখানে দিশেহারা, হতাশায় ভেঙে পড়েন—সেখানে মো; নাছির উদ্দীন পিন্টু দিলদার দাঁড়িয়েছেন মাথা উঁচু করে। ভয়ের কাছে হার মানেননি তিনি। বরং আগুনের ছাইয়ের ভেতর থেকেই নতুন করে জ্বালিয়েছেন সাহস, বিশ্বাস আর সেবার প্রদীপ।
তিনি শুধু একজন উদ্যোক্তা নন—তিনি নেককার, দানবীর, সমাজসেবক। মাদ্রাসার অসহায় ছাত্রদের অন্ন জোগান দেওয়া তাঁর কাছে কোনো প্রচারের বিষয় নয়, বরং নীরব ইবাদতের অংশ। প্রতিদিনের নামাজ যেমন তাঁর জীবনের শৃঙ্খলা, তেমনি মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর আত্মার খাদ্য।
পাহাড়ি ও বাঙালি—দুই সম্প্রদায়ের কাছেই তিনি নয়নের মনি। যেখানে বিভেদের দেয়াল ওঠে, সেখানে তিনি গড়েছেন বিশ্বাসের সেতু। পাহাড়ের মানুষ তাঁকে আপনজন ভাবে, বাঙালিরাও দেখে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে। এই বিরল গ্রহণযোগ্যতা আসে কেবল নিষ্ঠা, সততা আর দীর্ঘদিনের মানবিক আচরণ থেকে।
চিলেকোঠা রেস্টুরেন্ট পুড়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন—সব শেষ। কিন্তু পিন্টু দিলদার ভেবেছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেছেন,
“আগুন ব্যবসা পোড়াতে পারে, বিশ্বাস পোড়াতে পারে না।”
এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। কর্মচারীদের কাউকে তিনি একা ছেড়ে দেননি। পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহস দিয়েছেন, আশ্বাস দিয়েছেন—পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর।
ফ্রেন্ডলি আচরণে তিনি সবার প্রিয় মুখ। ছোটরা তাঁকে দেখে শেখে সম্মান, বড়রা শেখে দায়িত্ব। সবার মা–বাবার কাছে তিনি এক আদর্শ সন্তান—যিনি নিজের সাফল্যের চেয়ে সমাজের কল্যাণকে বড় করে দেখেন।
এই গল্প কোনো সাধারণ পুনরুত্থানের নয়। এটি এক নামাজি মানুষের আত্মশক্তির গল্প, এক দানবীরের নীরব সংগ্রামের গল্প, এক সমাজসেবকের অদম্য প্রত্যয়ের গল্প। সাজেকের পাহাড় আজও দাঁড়িয়ে আছে—ঠিক যেমন দাঁড়িয়ে আছেন মো; নাছির উদ্দীন পিন্টু দিলদার—অটল, অবিচল, মানবিকতার পতাকা হাতে।
আগুন পুড়িয়েছে একটি স্থাপনা,
কিন্তু জ্বালাতে পারেনি একটি আদর্শকে।
বিশ্বাস করে—এই মানুষগুলোই সমাজের সত্যিকারের নায়ক।