হাবিবুর রহমান সুজন।
মিজানুর রহমান (মিজান)—বয়সে তরুণ, কিন্তু জীবনের ভারে পরিণত এক পর্বতসম দৃঢ় মানুষ। যে বয়সে অন্যরা স্বপ্নের রঙিন ক্যানভাস আঁকে, সে বয়সেই মিজান বাস্তবতার কঠিন রেখায় জীবন লিখে চলেছেন। তার হাতে খেলনা নয়—সংগ্রাম; চোখে জল নয়—অদম্য সাহস।
প্রতিদিন নতুন করে হারানোর ভয় তাকে তাড়া করে ফেরে। তবুও হার মানেন না তিনি। ভাঙা জুতোর ভেতর দিয়েই হেঁটে চলে তার দৃঢ় প্রত্যয়। একটু ভালো থাকার আশায় নীরবে, একাকী লড়াই করে যান—কারও কাছে অভিযোগ নয়, কারও কাছে অনুযোগ নয়।
মানবিক কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত মিজান। সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তার জীবনের নৈতিক ব্রত। মানবিক দায়িত্ববোধের পাশাপাশি তিনি একজন ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবেও পরিচিত। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি—শব্দের চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এই মানুষটি সমাজের নীরব শিক্ষক।
তার জীবনের আরেকটি অনন্য অধ্যায়—মায়ের সেবা। অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যের ভার—সবকিছুর মাঝেও মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনেই তিনি খুঁজে পান আত্মতৃপ্তি। অনেক সময় নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দিয়ে মায়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি। মিজানের কাছে মা শুধু সম্পর্ক নয়—ইবাদত।
জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি একাধিক পেশায় যুক্ত। লাইব্রেরীর দায়িত্ব পালন ও বিবাহ কাজীর কাজ করে তিনি সৎভাবে রুজি রোজগার করেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সততা আর পরিশ্রমই তার মূল পুঁজি। প্রতিটি দিন শুরু হয় সংগ্রামে, শেষ হয় আশায়—আগামীকাল হয়তো একটু ভালো হবে।
মিজান জানেন, সবাই হাত বাড়িয়ে দেবে না। তবুও বিশ্বাস রাখেন—একদিন সূর্য উঠবেই। কারণ অসহায় হলেও তিনি দুর্বল নন। তার জীবনই তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধে তিনি প্রতিদিন জয়ী হন—নীরবে, দৃঢ়তায়।
মিজানুর রহমান (মিজান) আজ কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি আমাদের সমাজের অগণিত নীরব যোদ্ধার প্রতীক, যারা আলোচনার আড়ালে থেকে মানবিকতার বাতিঘর জ্বালিয়ে রাখেন।