1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
রাজনীতিতে ভুল করলে সমাধান আসবে না - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

রাজনীতিতে ভুল করলে সমাধান আসবে না

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান (বাবুল) সম্পাদক সংবাদ এই সময়।

বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এক বিশেষ সময় পার করছে। রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার, নির্বাচন ও গণভোটের প্রক্রিয়া, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি এবং নাগরিকদের প্রত্যাশার মধ্যে স্পষ্টভাবে একটি উত্তেজনাপূর্ণ বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক, নির্বাচন, গণভোটের সময়সূচি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান প্রভৃতি বিষয়ে দেশে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জনমনে আশার সঞ্চার করলেও এ ঘোষণার বিপরীতে যথেষ্ট রাজনৈতিক সংকটও রয়েছে। জনগণ যেমন পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে, রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কারের পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু সংস্কারের পরিধি ও বাস্তবায়ননীতি নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জনমত জরিপ থেকে শুরু করে সংবাদ বিশ্লেষণ পর্যন্ত একাধিক সূত্র ইঙ্গিত করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের যাত্রা এখনো যথাযথ রোডম্যাপে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি এ বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভাবনার ঘাটতি রয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ৮৪টি প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ৪৮টি। বাদ পড়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমনীতি সংস্কার, শ্রম অধিকার পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা- যা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নের মূল দাবি। এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উপেক্ষিত থাকায় বহু বিশ্লেষক মনে করছেন, সংস্কার প্রক্রিয়াটি কাঠামোগত গভীরতার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক আপসের প্রতিফলন। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ঐকমত্যের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই সঙ্গে আয়োজনের সম্ভাবনা। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল দাবি করেছে, গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যাতে জনগণ সংবিধান সংস্কার বিষয়ে স্পষ্টভাবে মতামত প্রদর্শন করতে পারে এবং তার ভিত্তিতেই নতুন সরকারের কাঠামো নির্ধারণ হতে পারে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের পরিকল্পনা। বাংলাদেশের ভোটাররা অতীতে বহুবার দেখেছেন, অবিবেচনাপ্রসূত বা তাড়াহুড়া করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তোলে। একসঙ্গে গণভোট ও নির্বাচন আয়োজন করলে রাজনৈতিক প্রচারণার প্রবাহ জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভোটারদের মনোযোগ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং দলগুলো পরস্পরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। আলাদা করে গণভোট আয়োজন করলে বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হতো এবং ভোটাররা সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যালোচনা করার সময় পেত।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে, তারা মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রার্থী নির্বাচনে জনপ্রিয়তা এবং পরিবর্তনের রাজনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় সরকার বা পরিবর্তনের সরকার গঠনের ধারণা তাদের রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে জামায়াত ও অন্যান্য দলও নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করে সামনে এগোচ্ছে। গ্রামগঞ্জ, শহর সব জায়গাতেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। রং-বেরঙের পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। বিশেষ করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বেশির ভাগ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করায় নির্বাচনি প্রচারণা ব্যাপকতা পেয়েছে।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং শত্রু হিসেবে দেখে। যারা এক সময় রাজনৈতিক মিত্র ছিল তারাও পরবর্তীতে পারস্পরিক পথের কাঁটায় রূপ নিয়েছে, রাজনীতিতে এমন নজির অনেক। এবারও রাজনীতির মাঠে এমন পরিস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যে যুক্তি ও পরিমিতিবোধের বদলে উত্তেজনা ও বিভাজন প্রাধান্য পাচ্ছে। গণভোট-নির্বাচন বিতর্ক, জুলাই সনদের সীমাবদ্ধতা এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে দলগুলোর অবস্থান এসবই এ অবিশ্বাসকে নতুনভাবে উন্মোচিত করছে।

জুলাই সনদের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য। যখন ২০-৩০টি ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী কোনো বিষয়ে আলোচনা করে, তখন মূল বিষয়গুলোতে একমত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি সব পক্ষ এটি মেনে না নেয়, তবে ভালো উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই; তারা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছে। এখন বাকি দলগুলোর দায়িত্ব হলো নিজেদের ইচ্ছায় ঐকমত্য পোষণ করে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এমনকি এ পরিস্থিতিতে বেশ কিছু রোডম্যাপকল্পে নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। প্রথমত, নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ও যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করা জরুরি, কারণ নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয় যখন জনগণ বিশ্বাস করে প্রার্থীরা দলীয় বা গোষ্ঠীভিত্তিক নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত। তৃতীয়ত, সংস্কার প্রক্রিয়াকে খণ্ডিত রাখলে চলবে না; গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকারসহ যেসব ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি রয়েছে, সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপসহ বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাজনীতিতে ভুল করলে সমাধান আসবে না, বরং পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত সংকটের দিকে যেতে পারে। ভুল সিদ্ধান্ত বড় সংকটে যেমন রূপ নিতে পারে; তেমনি আবার সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত দেশকে নতুন রাজনৈতিক স্থিতিতে পৌঁছে দিতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়, তবে সেই প্রতিযোগিতা যেন রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সংঘর্ষে না যায়- এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনীতি যদি সত্যিই ভবিষ্যৎমুখী হতে চায়, তাহলে প্রয়োজন আস্থা, স্বচ্ছতা ও সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ। নির্বাচনের এ প্রস্তুতিকাল তাই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক অনন্য সুযোগ বহন করছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থার একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট