কাজী নূরনবী নাইস,জেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ
নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং মহান বিজয় দিবস/২০২৫ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২.৩০ টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিগণ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ,সাংবাদিক,ছাত্র প্রতিনিধি, এবং ১১টি উপজেলার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পযার্য়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মূলত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশার অংশ। তাই এই লক্ষ্যে ১৪ই ডিসেম্বরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসক জানান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, আলোকসজ্জা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া ভোরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন,শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনে সারাদিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।
সভায় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। এই দিন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়,দেশের বিভিন্ন জেলা হানাদারমুক্ত হতে শুরু করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়তে থাকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনা হয়েছিল। সভায় তুলে ধরা হয় এসব ঐতিহাসিক মুহূর্ত নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।
এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিস্তৃত প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ
,বিজয় র্যালি ও কুচকাওয়াজ,স্কুল–কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা,হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারে বিশেষ খাবার পরিবেশন,জেলা শহরে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মান,মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা।
সভায় জেলা প্রশাসন আরো জানায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং জাতীয় মর্যাদায় দিবস দুটির সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ধারন করে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।