দিনভর নানা ব্যস্ততায় কখন যে শরীর পানিশূন্য হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। তখনই শরীর-মনজুড়ে ভর করে ক্লান্তি আর অবসাদ। একটু সচেতন হলেই শরীর-মন রাখা যায় সতেজ, হাইড্রেটেড ও প্রাণচঞ্চল। পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ মো. ইকবাল হোসেন। লিখেছেন রেজাউল আহমেদ
মডেল : লিনডা লিও
পানি কম খেলে শুধু গলা শুকায় না—মাথা ভার হয়, মনোযোগ কমে, ক্লান্তি চেপে বসে এবং ত্বক রুক্ষ দেখায়। কিছু উপায় মেনে চললে পুরো দিনটিকে রাখা যায় ফুরফুরে, সতেজ, আর মুখমণ্ডলে বজায় থাকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।
সকাল শুরু পানি খেয়ে
দীর্ঘ উপবাসের পর সকালের শরীর থাকে পানিশূন্য। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করলে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয়, মাথা ভার হয়ে থাকা ভাব কমে, ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে এবং সারা দিনের সতেজতার শুরু এখান থেকেই।
সঙ্গে পানি রাখুন
দিনে যত ব্যস্ততাই থাকুক, চোখের সামনে পানির বোতল থাকলে খাওয়া বাড়ে। অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে এক লিটারের পানির বোতল সামনে রাখুন। প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে অন্তত কয়েক চুমুক পান করুন। চাইলে পানির বোতলে রিমাইন্ডার স্টিকার লাগাতে পারেন।
লেমন হানি, গ্রিন টি ও হারবাল চা
শরীর যখন ক্লান্তি ভর করে বা কাজে মন বসে না, তখন লেবু ও মধু মেশানো হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। সতেজতা ফিরে আসবে। গ্রিন টি টক্সিন কমায়, মনোযোগ বাড়ায়। পুদিনা বা তুলসীর চা টেনশন কমায়।
তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই ভালো।
ফল ও অন্যান্য পানীয়
শুধু পানি খেলেই হয় না, শরীরের ইলেকট্রোলাইট; যেমন—সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামও ঠিক রাখতে হয়। এ জন্য প্রয়োজন এমন কিছু খাবার, যা শরীরকে আর্দ্র রাখবে। যেমন—শসা, তরমুজ, কমলা, আনারস, টমেটো। এগুলো দুপুরের খাবারে থাকলে শরীর দিনভর সতেজ থাকে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে
অভ্যন্তরীণ পানি যত জরুরি, বাহ্যিক আর্দ্রতাও ততটাই প্রয়োজন। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ব্যাগে লিপ বাম রাখুন। ফেস মিস্ট থাকলে দুপুরে একবার স্প্রে করুন। এগুলো শুধু লুকই ফ্রেশ রাখে না, ত্বকের পানি ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
ব্যাগে পানি রাখুন
বাইরে বের হলে প্রায়ই ট্রাফিক বা অন্যান্য কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। এ সময়ে শরীরে ক্লান্তি ভর করে। সঙ্গে পানির বোতল থাকলে রিকশা বা গাড়িতে বসে দু-তিন চুমুক পানি পান করে নেওয়া যায়।
হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং
গোটা দিন একটানা কাজ করলে শরীর বার্নআউটে যায়। যখন শরীর নড়াচড়া করতে শুরু করে, তখন রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এ সময় পানি দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে যায়। কাজের ফাঁকে প্রতি ঘণ্টায় মিনিটখানেক হাঁটাহাঁটি করলে ক্লান্তি অনেকটা কমে যায়। জানালার পাশে গিয়ে একটু বাতাস নিলে, স্ক্রিন থেকে ২০ সেকেন্ড চোখ সরিয়ে রাখলেও শরীর ও মনে ফুরফুরে লাগে।
ঘুমানোর আগে
রাতে ঘুমানোর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি শরীরকে পুরো দিনের চাপ থেকে মুক্ত করে। পরের সকালও হয় সতেজ।