1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
সেন্টমার্টিনের প্রাণ ফেরাতে প্রথম সরকারি মাস্টারপ্ল্যান - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আল-আকসায় তারাবি বন্ধ, ইসরায়েলি পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বললেন খতিব নে*তানিয়াহুর কার্যালয়ে শক্তি/শালী ক্ষে/প/ণাস্ত্র হামলা ইরানের কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যু/দ্ধ/বিমান বি/ধ্বস্ত বাগমারায় তিনটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারী বান্দরবান শহরে উজানী পাড়া অগ্নিকাণ্ডে ৫ বসতঘর ও ২ দোকান পুড়ে ছাই। শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মেয়েদের পিটিয়ে জখম সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হা/ম/লা মণিরামপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৫ বছরের কন্যা সন্তানসহ অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সচেতনতা ও অভিযানে মাদক নির্মূলে নতুন অধ্যায় ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

সেন্টমার্টিনের প্রাণ ফেরাতে প্রথম সরকারি মাস্টারপ্ল্যান

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ এই সময়।

দিনে সর্বোচ্চ পর্যটক সীমা ৯০০, আগাম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
বঙ্গোপসাগরের বুকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন বহুদিন ধরেই টিকে থাকার লড়াই করছে। প্রবাল মরছে, সামুদ্রিক কচ্ছপের আবাস ভেঙে যাচ্ছে, বর্জ্য ও পয়ঃদূষণে প্রাণ হারাচ্ছে দ্বীপ। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের চাপ, আগ্রাসী নির্মাণ আর অব্যবস্থাপনা মিলিয়ে দ্বীপের নাজুক বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রথমবারের মতো দ্বীপটি রক্ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ, বৈজ্ঞানিক, আইনসম্মত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে প্রস্তুত হওয়া এ পরিকল্পনায় সেন্টমার্টিনকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন’ হিসেবে পুনরায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার উন্মুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইমেইলে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, মতামত নিয়ে সেন্টমার্টিনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। প্রকাশিত খসড়ায় দ্বীপকে কীভাবে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার করা হবে, কোথায় সংরক্ষণ কঠোর হবে, কোথায় পর্যটন সীমিত করা হবে, কীভাবে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা যায়– সবই উল্লেখ করা হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যানের জরিপে দেখা গেছে, সেন্টমার্টিনে রয়েছে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির কম্ব জেলি, ১২ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৬ প্রজাতির শামুকসহ ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক জীব। এগুলোর ওপরই দ্বীপের সামুদ্রিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সব ক্ষেত্রেই দ্রুত অবনতি ধরা পড়েছে। দ্বীপে ১২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। কিন্তু হোটেল-কটেজ নির্মাণ ও স্থানীয় জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় এ সংখ্যা দ্রুত কমছে।

দ্বীপের সবচেয়ে বড় সংকট চিহ্নিত হয়েছে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ। হিসাব বলছে, সেন্টমার্টিন দিনে সর্বোচ্চ ৯২৬ জন পর্যটক বহন করতে পারে। অথচ মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট হাজার পর্যটক দ্বীপে ঢোকেন। অতিমাত্রায় ভিড়ে প্রবাল ভেঙে চূর্ণ হয়, সামুদ্রিক ঘাস নষ্ট হয়, কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান হারিয়ে যায়, দূষণ বাড়ে। মহাপরিকল্পনার খসড়ায় এটিকে গুরুতর ঝুঁকি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যান চারটি প্রধান লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। এগুলো হলো– বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক সম্পদ ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো। সেন্টমার্টিনের প্রাণ ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যানে দিনে সর্বোচ্চ ৯০০ পর্যটকের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দ্বীপে ভ্রমণে যেতে লাগবে আগাম নিবন্ধন। মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনে জেনারেটর নয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও সরকার কাজ করবে।

মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাল পুনরায় উৎপাদন করা হবে। পরে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রতিস্থাপন করা হবে। এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মনিটরিং ও রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ওপর থাকবে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি।

মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ (৫৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন) টাকা। ব্যয়ের বড় অংশ যাবে প্রবাল-জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, লেগুন পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধা, সবুজ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা সচেতনতা কর্মসূচিতে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ– এ তিন ধাপে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে।
মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন-১-কে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মাল্টিপল ইউজ জোন’ হিসেবে, যেখানে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অনুমোদন দেওয়া যাবে। জোন-২-কে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে সংবেদনশীল এলাকা রক্ষায় ‘বাফার জোন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোন-৩-এ জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে। কিন্তু এখানে শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয়রা প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করতে পারবে। জোন-৪-এ কঠোরভাবে প্রকৃতি সংরক্ষণ করা হবে। এখানে সব ধরনের প্রবেশ ও কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রবাল দ্বীপে প্রাণ ফিরছে
সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যাচ্ছে লাল কাঁকড়া। বেড়েছে শামুক-ঝিনুকের বিচরণও। ডালপালা মেলতে শুরু করেছে কেয়াগাছ। সৈকতের কাছেই সাগরের পানিতে দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের। সৈকতে প্রকৃতির এমন পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশবিদরা।

১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। রাতে থাকার সুযোগও থাকছে। তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন না। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের অনেক দ্বীপ আছে। কিন্তু সেন্টমার্টিনের মতো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দ্বীপ একটাই। দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয়দের দক্ষতার উন্নয়ন করে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট