1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মদ বিক্রেতা ও পানকারীদের প্রতি ইসলামের কঠোর বার্তা শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম সবার দোয়া ও ভালবাসায় অভিনয় করে এগিয়ে যেতে চাই : অভিনেতা ইমরান হাসো

১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান (বাবুল) সম্পাদক সংবাদ এই সময়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ফাইল ছবি
১৯৬৯ সালটা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক স্মরণীয় বছর। এ বছরেই অর্থনীতিতে এক বড় উড্ডয়ন ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির অর্থনীতির আকার দাঁড়ায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার। এর পর দেশটির অর্থনীতি দিনে দিনে বড় থেকে বড় হয়েছে। এখন দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ। যার অর্থনীতির আকার ৩১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের। উন্নত জীবন যাপনের শীর্ষে থাকা দেশটির মানুষের এখন মাথাপিছু আয় প্রায় ৯০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। এমন পিছিয়ে থাকা দেশটির মানুষকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মহাসড়কে অর্থনীতি। বিশেষত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মহাসড়কে অর্থনীতিকে পৌঁছে দিতে চাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব! এই রূপান্তরে কী করতে হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় চলছে বিভিন্ন আলোচনা।

১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি মানে হলো ১,০০০ বিলিয়ন ডলার, এটি একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে (জিডিপি) বোঝায়, যা সাধারণত নামমাত্র জিডিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। ২০টি দেশ ইতোমধ্যেই এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে। অনেক দেশের রাজনৈতিক দল এবং নীতিনির্ধারকরাও তাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন। সর্বশেষ তুরস্ক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বা ক্লাবে প্রবেশ করেছে।

বিএনপির অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ এবং কাঠামোগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন-ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করা। ক্ষমতায় আসলে দলটির পরিকল্পনা ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। যা ‘পরিশীলিত, বাস্তবসম্মত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতীয় লক্ষ্য, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য’ হিসাবে বর্ণনা করছেন দলটির নেতারা। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে আরও বলছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, বাজারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, মূলধন বাজার পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। একই সঙ্গে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা সমর্থনের জন্য বিএনপি প্রতিটি জেলায় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করবে, যা যুবকদের দেশীয় শিল্প ও উচ্চমানের বৈদেশিক চাকরির জন্য প্রস্তুত করবে। দলটি বলছে, বাংলাদেশের যুব সমাজের অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের বৈদেশিক আয় তিন থেকে চারগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সুবিধা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছায়। বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থান এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অঙ্গীকার করছে। এগুলি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়। খাত, বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি হিসাব করে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর সম্প্রসারণ থেকে বিনিয়োগ-নির্ভর বৃদ্ধিতে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধন উভয়কেই কাজে লাগানো হবে এবং নাগরিকদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকারীরূপে ক্ষমতায়িত করা হবে। নতুন পরিকল্পনায় তারা উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপটি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বিনিয়োগকেন্দ্রিক, যাতে ‘প্রতিটি দল— গ্রামীণ কারিগর থেকে ডিজিটাল যুবক, ক্রীড়াবিদ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী জাতীয় অর্থনীতিতে অংশ নিতে এবং উপকৃত হতে পারে। বিএনপির ভবিষ্যৎ সরকারি বিনিয়োগের জন্য চারটি মূল নীতিমালা। যেখানে অর্থের যথার্থ ব্যবহার, বিনিয়োগে রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ ও ইকোলজিকাল সুরক্ষা।

জাকার্তা মডেল অনুসরণ করতে পারে বিএনপি
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাজেট প্রণয়ন না করে বরং বাস্তব ভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করেছে ইন্দোনেশিয়া। যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর ও ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে। বাস্তবভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের কারণে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং এ কারণে বাজেট ঘাটতি কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, যেখানে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.০৪ শতাংশ। তবে দ্বীপ রাষ্ট্রটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যেমন বৈষম্য বৃদ্ধি, যেখানে দারিদ্র্য এবং গিনি অনুপাত মহামারীর পর খারাপ হয়েছে। জাকার্তা মডেলের মূল ধারণা হলো অর্থনৈতিক স্থিতীশীলতা বজায় রাখা। গত দুই দশকে গড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট, সংকীর্ণ উত্তেজনা এবং কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্য দিয়েও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। ধারাবাহিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির কারণে, ইন্দোনেশিয়া উন্নয়নমূলক চাহিদা পূরণের জন্য আর্থিক সম্পদের পর্যাপ্ত পরিস্থিতিতে রয়েছে, যার ফলে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩% এর নিচে রয়েছে। এ ধারাবাহিকতার কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে রয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি।

বিএনপি যখন এমন প্রস্তাব দিল তখন দারিদ্র্য বিমোচনে উল্টোপথে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের ‘দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, যা একটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত চিত্র। এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যেকোনো বড় বিপর্যয় (যেমন অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ) ঘটলে আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে সাফল্য পেয়েছিল, যার ফলে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। আবার বিএনপিকে বিশেষ অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন করতে হবে যাতে বিনিয়োগ বাড়ে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এটি ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচনে গতি আসবে।

৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে নজর দিতে হবে। কেননা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এরই মধ্যে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বলছে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১০ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান নেই, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে খেয়ে ফেলছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রয়াদেশও নেই। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। বেসরকরি বিনিয়োগে ভাটা। সরকারি বিনিয়োগ অর্থাৎ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে মন্থর গতি হওয়ার কারণে ৩০ হাজার কোটি টাকা কাঁটছাট করে ২ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। এসব কারণে কর্মসংস্থানে ভাটা, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কম। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে ছদ্ম বেকারত্ব বা বেকারত্ব বেড়েছে বহুগুণ। বৈদেশিক সাহায্য আর প্রবাসী আয়ে ভরসা। যা পুরো অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখছে। রিজার্ভকে টেনে তুলে ৩২ বিলিয়ন ডলারে রেখেছে। এমন বাস্তবতায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগ্রাসী বাজেট প্রণয়নের পরিবর্তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোরারোপ করতে হবে, দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। সবমিলে গড়পড়তায় ৫.৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারলেই বড় অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ, এমনটা বলছে আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো। শুধু আর্ন্তজাতিক সংস্থা নয়, আমরা মনে করি বাংলাদেশের অন্তঃশক্তির কারণে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট