মোঃ সোলায়মান গনি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। ভোটারদের সক্রিয়তা, দলীয় শক্তি ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—এ আসনে তিন প্রার্থীই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
ভোটার সংখ্যা ও লিঙ্গের ভাগ
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০২ জন। ভোটারদের এই সমান বিভাজন নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিশেষ করে নারী ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
সালেহী: ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ও তরুণ প্রজন্মের আইডল
ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, সম্প্রতি ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংগঠন দক্ষতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে আইডল হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ফ্যাসিস্ট হিসেবে সমালোচিত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ সামলেছেন। এই সংগ্রামী অভিজ্ঞতা এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্তি তাকে নির্বাচনী মাঠে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপি: ঐতিহ্যবাহী শক্তি
তাজভিরুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি উলিপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। উলিপুরে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক এখনও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহূর্তের ভোটার টার্নআউট এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিশ্চিত করাই তার মূল চ্যালেঞ্জ।
ইসলামী আন্দোলন: সাবেক এমপি হিসেবে উপস্থিতি
ডাঃ আক্কাস আলী সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি কুড়িগ্রাম-৩ এর সাবেক এমপি। এছাড়া, তিনি ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবুও কিছু ভোটার তার নৈতিক অবস্থান ও ধর্মভিত্তিক কর্মসূচি মূল্যায়ন করে সমর্থন দিচ্ছেন।
চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের ফলাফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—
ভোটার উপস্থিতি, বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ
শেষ মুহূর্তের প্রচারণা
সাংগঠনিক শক্তি
নিরপেক্ষ ভোট পরিবেশ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি প্রার্থীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক ধরে রাখা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমই চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।