1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয় - সংবাদ এইসময়
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হজে যেতে ৭৬৫৮০ বাংলাদেশির নিবন্ধন মায়ের দেখানো পথে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান জামালপুরে নারী-নারীর প্রেম ও বিয়ের দাবিতে অনশন দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয় ভয়াবহ দাবানলে বিধ্বস্ত চিলি, সহায়তার জন্য আর্তনাদ আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি : অর্থ, গুরুত্ব ও বিধান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে নকলা উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া মাত্র ভোটের পরিবেশ পাল্টে যাবেঃ প্রথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা শিশুকে লবণ খাওয়ানোর অভিযোগে মায়ের বি/রুদ্ধে হ/ত্যা চেষ্টা শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান

দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয়

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মাহমুদুর রহমান

দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয়
সেই ১৯৪৭ সাল থেকে প্রায় আট দশক ভারত দক্ষিণ এশিয়ার প্রভু বনে যাওয়ার অব্যাহত চেষ্টা করেও তেমন একটা সাফল্য লাভ করতে পারেনি। ২০১৪ সালের পর এক যুগ কট্টর হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি একচ্ছত্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে ঘরের পাশে প্রভুত্ব কায়েমে ব্যর্থ হলেও নিজে বিশ্বগুরু হওয়ার হাস্যকর এক দাবি করে বসেছেন।

মোদির চাটুকারদের এই আকাশকুসুম প্রচার নিয়ে আজকাল সারা দুনিয়াতেই বেশ ঠাট্টা-মশকরা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে আমাদের উপমহাদেশে দুই দশকের মার্কিন নীতির যে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, তার ফলে বিশ্ব ভূরাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতটুকু দৃশ্যমান ছিল, সেটিও আজ অনেকটাই যেন ধূসর। তবে একটি ক্ষেত্রে ভারত যে আসলেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুপারপাওয়ার, সেটি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সেই একমাত্র ক্ষেত্রটি হলো ক্রিকেট।

ভারতের জনগণ ক্রিকেটকে শুধু খেলা নয়, প্রায় ধর্মের আসনে বসিয়ে ফেলেছে। সে দেশে টেন্ডুলকার-কোহলিরা মানুষ নন, তারা একেকজন ভগবান! যেমন ভারতীয়রা বলিউডের কল্পকাহিনিকে ইতিহাস বলে বিশ্বাস করেন। বলিউডি ইতিহাসে শাহজাহান-মমতাজের প্রেমের সৌধ তাজমহল হয়ে গেছে ওদের ভগবান শিবের মন্দির, তেজোমহল। সিনেমা আর ক্রিকেট নিয়ে বিস্ময়করভাবে মেতে আছে কোটি কোটি জনতা। ফলে দেশটিতে নায়ক-নায়িকা আর ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি।

গত দুই দশকে ভারত শুধু যে খেলার মাঠে ঈর্ষণীয় ফল করেছে তা-ই নয়, ১৪২ কোটি জনসংখ্যার দেশে ক্রিকেট এক বিপুল লাভজনক ইন্ডাস্ট্রিতেও পরিণত হয়েছে। ভারতীয় লিগ, আইপিএলের সময় শুধু জুয়ায় যে পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়, তার হিসাব কষলে আমরা প্রায় সবাই অজ্ঞান হয়ে যাব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এখন শুধু নামেই আন্তর্জাতিক; কাজকর্মে সংস্থাটি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিদেশি শাখা মাত্র। আইসিসির প্রধান দুই পদ প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভারতীয়দের দখলে। আইসিসির প্রেসিডেন্ট জয় শাহ ভারতের অতি প্রভাবশালী গৃহমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তকে আনা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির অতিঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসায়ীর একজন মুকেশ আম্বানির জিওস্টার থেকে।

আইসিসির বার্ষিক আয়ের সিংহভাগ যেমন আসে ক্রিকেটের বৃহত্তম বাজার ভারত থেকে, তেমনি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড আইসিসির কাছ থেকে রেভিনিউ বাবদ একাই ৩৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ পেয়ে থাকে। বছরে ডলারের অঙ্কে বিসিসিআই পায় ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইসিসি থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাত শতাংশ রেভিনিউ পায় আরেক ক্রিকেট পাওয়ার হাউস অস্ট্রেলিয়া। এক এবং দুই নম্বরের মধ্যে রেভিনিউ ভাগাভাগির পার্থক্যটি লক্ষ করার মতো।

সে তুলনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাপ্তি একেবারে মন্দ নয়। আমাদের আয় চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, যার পরিমাণ ২৬ মিলিয়ন ডলার। তিন ফর্মের ক্রিকেটে বর্তমানে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া এবং ৫০ ওভার খেলা ও টি২০-তে ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। একদিনের নারী ক্রিকেটেও সম্প্রতি ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এহেন ক্রিকেট সুপারপাওয়ার ভারতকে আত্মসম্মানের প্রশ্নে বাংলাদেশ এমন এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেÑযা মোকাবিলা করতে ভারত ও আইসিসির ক্রিকেট কর্তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

ঘটনার শুরু যে আমাদের স্টার ফাস্ট বোলার মোস্তাফিজকে আইপিএলে দেওয়া ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা নিয়েÑসেটি নিশ্চয়ই আমার সব পাঠক জানেন। মোক্ষম সময়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের অপমানের এমন জুতসই জবাব দিয়েছে, যার জন্য ওরা একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা চরম সাম্প্রদায়িক দেশটিকে একেবারে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সার্বভৌম বাংলাদেশের সাহসী ও সঠিক অবস্থান গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে অভিনন্দন জানাই।

এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত জাতিকে মহান জুলাই বিপ্লবের অবিস্মরণীয় স্লোগান ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’কে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থকে দেশের সম্মান এবং সার্বভৌমত্বের ওপরে স্থান দিচ্ছেন। তারা এই ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদানে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত বলেই মনে হচ্ছে।

তারা হয়তো ভুলে গেছেন যে, দেশের মর্যাদার ওপরে কোনো তথাকথিত স্টারের অবস্থান হতে পারে না। ফ্যাসিস্ট আমলে এই স্টারদের মধ্যে অনেকের সহযোগীর ভূমিকা জাতি আজও ভোলেনি। মোস্তাফিজের অপমান অর্থের মোহে এদের কারো গায়ে লাগেনি। জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের এই আচরণ প্রত্যাশিত ছিল না। ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালকের অসংযত ও দায়িত্বহীন কথাবার্তাও এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তার কথায় যুক্তি থাকলেও শব্দচয়ন বেশ আপত্তিজনক ছিল। তাদের সবার সুমতি হোক।

এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই যে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত অর্থনীতি ও সামরিক বিচারে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এ ধরনের শক্তির অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেসব রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের চরিত্রগত পার্থক্য হলো, মধ্যপ্রাচ্যে জায়নিস্ট ইসরাইল ছাড়া একমাত্র হিন্দুত্ববাদী ভারতই অহরহ তার শক্তি প্রদর্শন করে একচ্ছত্র আঞ্চলিক প্রভুত্ব কায়েম করতে ইচ্ছুক। উভয় কট্টর সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রই জন্ম থেকে নব্য উপনিবেশবাদী শক্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা লালন করে। ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর দিল্লি বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো সময় অর্থনৈতিক ও সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রকে তাদের বৈদেশিক ও ভূরাজনৈতিক কৌশল সাজাতে হচ্ছে।

উপমহাদেশের দ্বিতীয় প্রধান সামরিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ করে ফেলার ফলে চরম অর্থনৈতিক দুর্বলতা সত্ত্বেও দেশটিকে দিল্লির সমঝে চলতে হয়। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চারদিনের সীমিত যুদ্ধে বড় দেশটির সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা সারা বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের একদিনের বিমানযুদ্ধেও পাকিস্তান ভারতের দর্প চূর্ণ করে দিয়েছিল। ক্রিকেট খেলাতেও আইসিসির কাছ থেকে পাকিস্তান তার প্রাপ্য সম্মান আদায় করে নিয়েছে।

পাকিস্তান যেহেতু ভারতে খেলতে যায় না, তাই ভারতে অনুষ্ঠিত প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইভেন্টে আইসিসিকে তৃতীয় কোনো দেশে পাকিস্তানের খেলার ব্যবস্থা করতে হয়। সার্কের বাদবাকি ছয় সদস্যের মধ্যে ভুটান ছাড়া অন্য কোনো দেশ ভারতের উগ্র দাদাগিরি আর মানতে চাচ্ছে না। শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে প্রবল ভারতবিরোধিতা রয়েছে। কাবুলের সঙ্গে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও আফগানিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খানিকটা উষ্ণ হয়ে উঠলেও মনে রাখা দরকার যে, দিল্লির ‘ডিপ স্টেট’ আফগানিস্তানের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে সর্বদা তালেবানের প্রতিপক্ষ নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সর্ব ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

সুতরাং দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি সব সময় থেকেই যাবে। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবেও ভারতের আগ্রাসী চরিত্রের বিরুদ্ধে প্রবল জন-আকাঙ্ক্ষার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটেছিল, যা সহজে প্রশমিত হবে না। ফলে ‘ভারতীয় গোয়েন্দা অ্যাসেট’দের সাময়িকভাবে হলেও বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ থেকে পাততাড়ি গুটাতে হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত মূলত নিজ স্বার্থে আমাদের সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশকে এক অঘোষিত উপনিবেশ বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের একদলীয় বাকশাল শাসনের পতনের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে সর্বপ্রথম ভারতীয় হেজেমনিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। মাত্র ছয় বছরের শাসনকালে শহীদ জিয়াউর রহমান মুসলিম বিশ্ব এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে বাংলাদেশকে ভারতীয় বলয়ের বাইরে নিয়ে যেতে অনেকাংশে সক্ষম হয়েছিলেন।

৯/১১-পরবর্তী মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বৈরী বিশ্ব ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার গঠন করে বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঘরে-বাইরে প্রচণ্ড চাপের মুখেও অবিচলভাবে ভারতীয় আগ্রাসন ও কূটচাল প্রতিহত করেছিলেন। চারদলীয় জোট সরকার অপসারিত হলে প্রথমে মইন-ফখরুদ্দীন এবং পরে হাসিনার মাধ্যমে ভারত আবার বাংলাদেশকে কুক্ষিগত করে নিয়েছিল। প্রায় দেড় যুগ ভারতীয় শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণদের বিপ্লবে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হলে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত দেড় বছরে আমাদের প্রবল প্রতিবেশীকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশকে উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করার দিন সমাপ্ত হয়ে গেছে। ক্রিকেটার মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে বিবাদ সৃষ্টি হলে আইন, বিচার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কোনো কূটনৈতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশংসনীয়ভাবে বলেছেন, গোলামির দিন শেষ হয়েছে। উপদেষ্টার এই বক্তব্য জুলাই বিপ্লবের জনপ্রিয় স্লোগান, ‘গোলামি না আজাদি- আজাদি আজাদি’ এবং খালেদা জিয়ার আপসহীন ঘোষণা, ‘আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির’ এর সার্থক প্রতিধ্বনি।

মোদ্দাকথা, বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত ভূরাজনৈতিক পরাজয় দিল্লি এখন পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ভারত তার সব ধরনের অপপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে তো বটেই, এমনকি ক্রিকেট খেলার মাঠে পর্যন্ত দিল্লি চরম অসহযোগিতা করে যাচ্ছে।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতনকারী উগ্র হিন্দুত্ববাদী, চরম সাম্প্রদায়িক মোদি সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উল্টো নির্লজ্জভাবে ‘হিন্দু কার্ড’ খেলে চলেছে। শেখ হাসিনা মোদির আশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য অব্যাহত উসকানি দিচ্ছেন। ভারতীয় এজেন্টরা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আইকনদের অন্যতম ওসমান হাদিকে সম্প্রতি হত্যা করেছে। আমার বিবেচনায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বার্থের জন্য বুমেরাং হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় শোকাতুর অশ্রুসজল জনসমুদ্র গর্জন করে জানিয়েছেÑদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

ওসমান হাদির জন্য শোক আমাদের শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো সময়ের তুলনায় আজ অধিকতর একতাবদ্ধ। আমাদের দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা জাতি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিপ্লবের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকারকেও প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। এই খেলোয়াড়দের মনে রাখা উচিত, পৃথিবীতে একমাত্র ভারতেরই ক্রিকেট ময়দানে রাজনীতি টেনে আনার বদ-অভ্যাস রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গেও সমস্যা তারাই সৃষ্টি করেছে। যখন আইসিসির সঙ্গে আমাদের ক্রিকেট বোর্ড দরকষাকষি চালাচ্ছে, সেরকম একটি সংবেদনশীল সময়ে খেলোয়াড়দের বিপিএল বর্জনের সিদ্ধান্ত চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থের পরিপন্থী আচরণ বলে আমি মনে করি। সরকার চালাতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ভারতীয় হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে তিনি প্রশংসনীয় দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও আত্মসম্মানবোধের প্রমাণ দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, মোস্তাফিজকে নিয়ে বিবাদে বর্তমান সরকার যে দ্রুততা ও সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেটি কোনো রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে নিতে সক্ষম হতো না।

আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের স্বাধীন, সাহসিকতাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ক্ষমতায় যেতে উদগ্রীব সব রাজনৈতিক দলকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এর আগে শুধু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন দেশপ্রেম এবং আত্মসম্মানবোধের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। আমি আশাবাদী যে, আগামী প্রজন্ম উপরোক্ত তিনজনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দিল্লিকে তোয়াজ করার হীনম্মন্যতা থেকে এবার বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মুক্ত হওয়া উচিত। শাবাশ বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ড।

ফুটনোট :

আইসিসি বিশ্বকাপে ভারতে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আজ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। বাংলাদেশ ভারতে খেলতে সম্মত না হলে ভারতনিয়ন্ত্রিত আইসিসি নাকি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় খেলানোর হুমকিও দিয়েছে। একটি স্বাধীন মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে বাংলাদেশের উচিত এই হুমকি অগ্রাহ্য করে ভারতে না খেলার ব্যাপারে আগের অবস্থানে স্থির থাকা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট