মো আবদুল করিম সোহাগ,
ঢাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আজ ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি পায়রা চত্বরে এ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ঢাবির তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দীন আহমদ, অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ঢাবি তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান সহ ডাকসু ও তরুণ কলাম লেখক ফোরামের বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজার কথা আপনাদের সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, অবিশ্বাস্য ব্যাপার হাদির বয়স কত ছিল, ৩১/৩২ এরকম হবে। এই বয়সের একটা ছেলের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে, জানাজায় আহাজারি করে কেঁদেছে। এর কারণটা কি আসলে? এর কারণটা সিম্পল তারা হাদির মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এতকিছুর ভিড়ে আমরা শহীদ হাদির আরেকটি পরিচয় হারিয়ে ফেলছি, সেটি হলো হাদি কিন্তু একজন কবি ছিলেন। তার এই পরিচয়টিও কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ৫ আগস্টের পরে যে একটিভিটি শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত ওসমান হাদির শেষ হয়েছে বুলেটের মাধ্যমে। আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ করব শহীদ ওসমান হাদিকে যদি আপনারা বাঁচিয়ে রাখতে চান, গানে, কবিতায়, শিল্পে ও সাহিত্য হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আপনারা আমাকে ওয়াদা করেন, যে পরিস্থিতি আসুক, ওসমান হাদির বিচারের দাবি থেকে আপনারা কখনো সরে আসবেন না।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি যে বিপ্লবের কথা বলেছিলেন, শাহবাগীদের হাত থেকে এই শাহবাগকে মুক্ত করেছিলেন, আপনাদের দায়িত্ব থাকবে আর কখনোই এই টিএসসি, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডিয়াপন্থী, দিল্লিপন্থী কোন কালচারাল ফ্যাসিস্ট তার দখল করতে না পারে। ওসমান হাদির স্বপ্ন, ওসমান হাদির সাংস্কৃতিক বিপ্লব, ওসমান হাদির রাষ্ট্রীয় সংস্কার আপনারা যদি অব্যাহত রাখতে পারেন, তাহলে আমাদের ওসমান হাদির রক্ত এবং তার শাহাদাত সফল হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, গত দুই দশকের মত সময় আমরা আসলে স্বাধীন ছিলাম না। এর অন্যতম কারণ আমাদের সংস্কৃতি পরাধীন হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সংস্কৃতি দখল হয়ে গিয়েছিল। সেই সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করার যুদ্ধ যারা করেছেন, জুলাই বিপ্লবের পাশাপাশি সেই আন্দোলনের প্রধান পুরোধা শহীদ ওসমান হাদি। শহীদ ওসমান হাদী আমাদের সেই সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার করেছেন। আমরা আজকে এখানে কাওয়ালি দেখছি, এটা একসময় ভাবা যেত না। আমরা আশা করব আজকে যারা এই আয়োজন করেছেন ডাকসু এবং তরুণ লেখক ফোরাম এবং শহীদ ওসমান হাদির যত অনুসারী আছেন আপনারা আমাদের এই সাংস্কৃতিক চেতনা জিয়ে রাখবেন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বেরিয়ে এসে বাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে আপনারা ছড়িয়ে দিবেন। তাহলেই শহীদ ওসমান হাদির প্রতি সম্মান জানানো হবে, স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীন সংস্কৃতি, স্বাধীন ভাষা, স্বাধীন মাতৃভূমির উদ্দেশ্য সফল হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মিউজিক ব্যান্ড ‘কাসিদা’ , ‘হ্যাভেন টিউন’ সহ অন্যান্য শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন।