লাইফস্টাইল ডেস্ক
যৌথ পরিবারে দাম্পত্য শান্তি বজায় রাখার উপায়
আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যৌথ পরিবার। একটা সময় যৌথ পরিবার ছেড়ে সবাই অণু পরিবার গঠনে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও বর্তমানে আবার উল্টো পথে হাঁটছে। ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর পারিবারিক বন্ধনের কথা বিবেচনা করে অনেকেই আবার যৌথ পরিবারে থাকছেন। সমস্যা হলো, যৌথ পরিবারে বসবাসের ভালো দিকের পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও আছে। বিশেষত, নতুন দম্পতিদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, ভুল বোঝাবুঝি আর সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া আর কিছু সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে যৌথ পরিবারে থেকেও দাম্পত্য জীবন হতে পারে শান্ত আর সুখের। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে সুস্পষ্ট যোগাযোগ
যৌথ পরিবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দাম্পত্য যোগাযোগ। নয়তো ছোটোখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় দুজনে একান্ত কথা বলুন। নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নিন। এতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
২. পারিবারিক সীমারেখা ঠিক করুন
ভালোবাসা আর ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ—এই দুটো বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। কোন বিষয়গুলো স্বামী–স্ত্রীর ব্যক্তিগত, আর কোনগুলো পরিবারের সঙ্গে ভাগ করা যাবে— এই সীমা দুজনে মিলেই ঠিক করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব হ্রাস পাবে।
৩. একে অপরের পাশে দাঁড়ান
যৌথ পরিবারে অনেক সময় একজনকে পরিবারের সিদ্ধান্ত বা কথাবার্তায় চাপের মুখে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী–স্ত্রীর উচিত একে অপরকে দোষারোপ না করে সমর্থন দেওয়া। এতে সম্পর্কের ভিত আরও শক্ত হয়। সংসারেও শান্তি থাকে।
৪. শ্বশুর–শাশুড়িকে সম্মান করুন
দাম্পত্য শান্তির একটি বড় চাবিকাঠি হলো বড়দের প্রতি সম্মান। কারো সঙ্গে আপনার মতবিরোধ থাকতেই পারে। তার জন্য সরাসরি তর্ক না করে সময় ও পরিস্থিতি বুঝে মত প্রকাশ করুন। এটাই হবে বুদ্ধিমানের মতো কাজ।
৫. ব্যক্তিগত সময় ও স্পেস জরুরি
যৌথ পরিবার মানেই ২৪ ঘণ্টা সবার সঙ্গে থাকা— এমনটা নয়। সুযোগ পেলেই স্বামী–স্ত্রী দুজন মিলে হাঁটতে যাওয়া, একসঙ্গে চা খাওয়া বা ছোটখাটো আড্ডা—এমন বিষয়গুলো দাম্পত্য বন্ধনকে মজবুত করে তোলে।
৬. তুলনা বা অভিযোগ থেকে দূরে থাকুন
‘ওর বউ এমন করে’, ‘ওমুকের স্বামী এত ভালো—এ ধরনের তুলনা সম্পর্ককে দুর্বল করে। প্রতিটি পরিবার আলাদা, প্রতিটি সম্পর্কের চ্যালেঞ্জও আলাদা। এই সত্য মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৭. সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করুন
দোষ খোঁজার চেয়ে সমাধান খোঁজা বেশি জরুরি। প্রয়োজনে পরিবারের বিশ্বাসযোগ্য কারো সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন। সবাই মিলে সমাধান করুন।
৮. কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করুন
শত ব্যস্ততার মধ্যে অনেকসময় ভালোবাসা প্রকাশের হার কমে যায়। একটি ছোট্ট ধন্যবাদ, যত্নের কথা কিংবা হাসির মতো বিষয়গুলোই দাম্পত্য জীবনে শান্তি এনে দেয়।
যৌথ পরিবারে দাম্পত্য শান্তি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব কিছু নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য আর ভালোবাসা থাকলে যেকোনো পরিবারেই শান্তি ও সুখ ধরে রাখা সম্ভব।