মোহাম্মদ আলাউদ্দিন,স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।
বঙ্গোপসাগরের উত্তাল নীল জলরাশিতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আবারও প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি মাছ ধরার বোটসহ ২০ জন জেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সুরমা’।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে। জলদস্যুরা জেলেদের কাছ থেকে ধরা মাছ, জ্বালানি তেলসহ বোটে থাকা অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে দস্যুরা বোটটির ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে মাঝ সমুদ্রে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় দিশেহারা জেলেরা গভীর সমুদ্রে ভেসে থাকতে বাধ্য হন। বিষয়টি নৌবাহিনীর কাছে পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা সুরমা’ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
দ্রুত ও দক্ষ অভিযানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় থাকা মাছ ধরার বোটটি শনাক্ত করেন এবং নিরাপদে ২০ জন জেলেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত জেলেদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘ সময় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় অনেক জেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, সেখানেও নৌসদস্যদের মানবিক সহায়তা ছিল প্রশংসনীয়।
পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া বোটটিকে নৌবাহিনীর জাহাজের সঙ্গে বেঁধে (Towing) নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়। বোটটির ইঞ্জিন মেরামতের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
উদ্ধারপ্রাপ্ত জেলেরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “নৌবাহিনী না এলে হয়তো আমরা বাঁচতাম না। মাঝ সমুদ্রে আমাদের কোনো উপায় ছিল না।”
উল্লেখ্য, দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষা, জলদস্যু দমন, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং সমুদ্রে চলাচলকারী জেলে ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক এই অভিযান আবারও প্রমাণ করলো—সমুদ্রের বুকে সাধারণ মানুষের ভরসার নাম বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর এই তৎপরতা ও মানবিক ভূমিকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ও আস্থার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।