1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়াই সেরা - সংবাদ এইসময়
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুর–৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত, নতুন তফসিলের অপেক্ষা ২ দশক পর আজ বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়নের পাশাপাশি পাহাড়ে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে-ওয়াদুদ ভুইয়া শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী বাদলের মৃত্যু কক্সবাজারে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে : দ্য ইকোনমিস্ট প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে খালিদুজ্জামানকে ক্যান্টনমেন্টে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি ৬ সীল জব্দ, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঁয়তারা করছে জামায়াত: এ্যানি তানযীমুল উম্মাহর বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ শবে বরাতের ফজীলত, আমল ও বর্জনীয় কাজ

প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়াই সেরা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দ আবদাল আহমদ

প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়াই সেরা
বাংলাদেশের রাজনীতির অম্লান ধ্রুবতারা খালেদা জিয়া। শারীরিকভাবে তিনি হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁর অনন্য কাজ দীপ্যমান। বিশেষ করে, নির্বাচনি প্রচারে তিনি যে অসাধারণ উদাহরণ রেখে গেছেন, আজ তা মানুষের চোখে ভাসছে।

দেশের জনগণের মূল্যায়নে নির্বাচনি প্রচারাভিযানে এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়াই সেরা। তার রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি। এর আগে যেমন পারেননি শেখ হাসিনা বা অন্য জাতীয় নেতারা, তেমনি এখনো পারছেন না তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান কিংবা অন্য জাতীয় প্রবীণ ও নবীন নেতারা।

বেগম খালেদা জিয়া তার ৪৩ বছরের রাজনীতিতে আন্দোলনে, সংগ্রামে, সরকারে এবং নির্বাচনি প্রচারাভিযানে ১০ হাজারের বেশি সভা-সমাবেশ করেছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং রাত-দিন সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনি প্রচারে তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে ১৮০০ নির্বাচনি জনসভা ও পথসভা করেছেন। একদিনে ৩৮টি নির্বাচনি জনসভা করার তার রেকর্ড রয়েছে। তিনি টানা ৪৮ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে জনসভায় বক্তৃতা করে গেছেন। দলের ৩০০ প্রার্থীর আসনেই তিনি গিয়েছেন। এমন বিরল রেকর্ড আর কারো নেই। (সূত্র : নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া, প্রথম জীবনীগ্রন্থ)

তারেক রহমান এখন বিএনপি চেয়ারম্যান। দল ও জোটের পক্ষে দেশব্যাপী মূল নির্বাচনি প্রচার তিনিই চালাচ্ছেন। সেনাসমর্থিত ১/১১-এর জরুরি সরকারের সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গিয়েছিল এবং তিনি পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। হুইলচেয়ার ও স্ট্রেচারে করে চলাফেরা করতে হতো।

এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, লাঠিতে ভর দিয়েও হাঁটতে পারতেন না। আদালতে তিনি নিজেই বিচারককে জানিয়েছিলেন, তাকে ১৮ ঘণ্টাই চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরিয়ে রাখা হতো। লন্ডনে নির্বাসনে ‍থাকার সময় তার চিকিৎসা হয়েছে ওয়েলিংটন হাসপাতাল, হ্যামারস্মিথ হাসপাতাল, কিংস ওক হাসপাতাল এবং লন্ডন ক্লিনিকে। এরপর কিছুটা সুস্থ হন। তিনি যে এত বড় নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারবেন, অনেকেরই সংশয় ছিল। কিন্তু তিনি এখন অনেকটা সুস্থ এবং দেশে প্রত্যাবর্তন করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে একটি বিশেষায়িত বাসে করে দেশজুড়ে চলছে তার নির্বাচনি প্রচার। বাসটি যেদিকে যাচ্ছে উৎসাহী জনতা ঘিরে ধরছে, বাসের ভেতর থেকে জানালা দিয়ে তিনি হাত নাড়ছেন। তারেক রহমান নিজে লড়ছেন ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে। সিলেট থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনি প্রচারে এখন পর্যন্ত ৩০টির মতো জনসভায় বক্তৃতা করেছেন।

প্রথমদিন সিলেট আলিয়া মাঠ থেকে দিয়ে প্রচার শুরু করে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সভা করেন। এরপর চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, ঢাকার ভাষানটেক, রাজশাহী মাদরাসা মাঠ, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠ, গাজীপুর, উত্তরায় প্রচার করেছেন। এখন তিনি যাচ্ছেন খুলনা ও বরিশাল বিভাগে।

তারেক রহমানের নির্বাচনি কৌশল

এবারের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভোট চাওয়ার কৌশল ভোটারদের বিশেষ দৃষ্টি কাড়ছে। তার প্রচারাভিযানে আধুনিকতা ও ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করছেন মানুষ। একমুখী রাজনৈতিক বক্তৃতার পরিবর্তে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সুনির্দিষ্ট নীতিভিত্তিক প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি গতানুগতিক উঁচু ডায়াসে দাঁড়িয়ে শুধু বক্তব্য না দিয়ে সাধারণ মানুষকে মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন এবং স্থানীয় সমস্যা, প্রত্যাশা এবং ভোগান্তির কথা তার মুখ থেকে সরাসরি শুনে সরকারে এলে তা কীভাবে সমাধান করবেন, সে কথা বলছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, তারেক রহমানের প্রচারকৌশল অনেকটা সংলাপ বা কথোপকথনধর্মী।

তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারকৌশল দেখার জন্য তার বেশ কয়েকটি সমাবেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। না, তার সঙ্গে কোথাও মঞ্চে ছিলাম না। তবে সাংবাদিক হিসেবে দূর থেকে দাঁড়িয়ে আমি তাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। তরুণদের সঙ্গে তার সরাসরি ‘পলিসি টক’ বা নীতিনির্ধারণী আলোচনাটা তো খুবই আকর্ষণীয় এবং নতুনত্বের সৃষ্টি করেছে। সেখানে দেশের সুনির্দিষ্ট সমস্যা যেমন বেকারত্ব নিরসন, কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যায়, শিক্ষার্থীরা কীভাবে ‘স্টুডেন্ট লোন’ পেতে পারে এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের মতো বিষয় আলোচিত হচ্ছে। তারেক রহমানকে দেখা গেছে তিনি অডিয়েন্স থেকে আসা প্রশ্ন, বক্তব্য ও পরামর্শগুলো নোট করছেন এবং বক্তৃতায় প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি কোনো কোনো পরামর্শ তিনি তার পরিকল্পনায় যুক্ত করবেন বলে উল্লেখ করছেন।

দেশ গড়ার পরিকল্পনায় তারেক রহমান যে কার্ডভিত্তিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ইতোমধ্যে তা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ‘হেলথ কার্ড’ বা ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ চালুর তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় রয়েছে। বিএনপি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচনি ইশতেহার দিতে যাচ্ছে, এর মধ্যেও এগুলো স্থান পাবে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারও অত্যন্ত সুন্দরভাবে করছেন তারেক রহমান। লন্ডনে থাকাকালে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মী এবং আয়োজিত সমাবেশ, সভা-সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে এটা প্রচারের একটা ভিত্তি স্থাপন করেছিল। দেশে ফেরার পরও তিনি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, যেখানে তার ৫৬ লাখ অনুসারী রয়েছেন এবং ইউটিউবের মাধ্যমে সেটা জোরালোভাবে ব্যবহার করছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভিডিও কনফারেন্সিংকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নিয়ে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোশ্যাল ব্লেড’-এর র‌্যাংকিংয়ে তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ফেসুবক কনটেন্ট নির্মাতার তালিকায় ৬৭তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘পডকাস্ট’ ব্যবহার করছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এই পডকাস্টে তিনি কোনো উপস্থাপক ছাড়াই সরাসরি নিজের ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। তরুণদের সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে তারেক রহমান ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি ন্যাশনাল রিল (reel) মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকার গুলশানে সাহাবুদ্দীন পার্কে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে সরাসরি তিনি কথা বলেছেন।

অনলাইনে নারীদের হয়রানি রোধে তিনি পাঁচ দফার একটি পরিকল্পনা পেশ করেছেন, যার মধ্যে জাতীয় অনলাইন নিরাপত্তা সিস্টেম ও ২৪/৭ হটলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ফেসবুক-মেটা ও গুগলের অফিস আনার বিষয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে তারেক রহমানের আট দফা পরিকল্পনাকে ‘আট কার্ড’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে। এ জন্য ডেডিকেটেড সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ছাড়াও ইউটিউব চ্যানেল এবং এক্স (X) প্ল্যাটফর্মের (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে নিয়মিত রাজনৈতিক বার্তা, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে ‘দ্য প্ল্যান’ শীর্ষক ভিডিও এবং সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করছেন।

বিভাগীয় শহর ও অঞ্চলভিত্তিক প্রচার

তারেক রহমান বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে নির্বাচনি প্রচারের জন্য গত ২১ জানুয়ারি সিলেটে যান এবং ওইদিন রাতে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজারে জিয়ারত করেন। পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। গত ১১ দিনের নির্বাচনি প্রচারে তাকে দেখা গেছে তিনি বিভাগ ও অঞ্চলভিত্তিতে স্থানীয় বিষয়গুলো তার প্রচারে তুলে ধরেছেন। সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত নির্বাচনি সভাগুলোয় তিনি জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট, স্কুল ও কলেজ দ্রুত মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, আমরা এখন নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে শহীদ আবু সাঈদ ও শরীফ ওসমান হাদির মতো জুলাই বিপ্লবীদের ত্যাগের ঋণ শোধ করা যায়Ñবৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে। চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামকে কার্যকর ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে গড়তে চাই। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তার মা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামকে অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতির স্বার্থেই আমার কাছে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যটন এবং আইটি খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর অঞ্চলে গিয়ে তারেক রহমান পদ্মা সেচ প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজের কথা তুলে ধরেছেন। কৃষি উন্নয়নের জন্যই এগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। বরেন্দ্র অঞ্চলে তিনটি ফসল নিশ্চিত করতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আম সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাছাড়া ওই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলে গিয়ে তারেক রহমান মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন এবং তরুণ-যুবকদের জন্য আইটি ট্রেনিং সেন্টার করার কথা বলেছেন।

১৯ বছর পর নিজ জেলা বগুড়ায় গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারেক রহমান। নির্বাচনি সভায় তিনি বলেন, বগুড়া আমার কাছে একটি ‘মডেল জেলা’। আমি সবসময় চিন্তা করি মহান আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিলে বগুড়াকে সেভাবে সাজাব, বাকি ৬৩ জেলাকেও সেভাবে সাজাব। তিনি বগুড়াকে কোনোভাবেই বিতর্কিত করা যাবে না বলে সতর্ক করেন। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাকে পরিচয় করাবে কে, প্রিয় জনতা, আপনারাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিন।’ ‘বগুড়ার মাটি, বিএনপির ঘাঁটি’ দেখতে চাই। এ সময় তারেক রহমানের স্ত্রী বগুড়ার বধূ ডা. জুবাইদা রহমানও সঙ্গে ছিলেন।

ঢাকায় বেশ কয়েকটি নির্বাচনি সভায় তারেক রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেছেন, ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচন বানচালের জন্য পরাজিত শক্তি এখনো তৎপর। দেশপ্রেমিক দল ও শক্তিকে এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। এবার সময় দেশ গঠনের। গত ১৭ বছর দেশে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের জামাত পড়তে হবে। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আর ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। তিনি জনগণকে জানান যে, মহান আল্লাহর রহমতে ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ড মহিলাদের হাতে তুলে দেব। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে পরিবারগুলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। পরিবেশ রক্ষায় দেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। আর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে, জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং কৃষিকাজ ও সেচ সুবিধার্থে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের ঘোষণা দিয়েছেন। তার বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মে মাস পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি খাল খনন করেছিলেন। দৈর্ঘ্যের পরিমাণ ছিল ২৬০০ কিলোমিটার। সুপরিচিত পাইলট প্রকল্প ছিল যশোরের শার্শা উপজেলার ‘উলশী-যদুনাথপুর’ খাল খনন প্রকল্প, যা জিয়া খাল নামেও পরিচিত। জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ফলে প্রায় আট লাখ একর জমি সেচের আওতায় আসে।

নির্বাচনি প্রচারে তারেক রহমানের বিনয় ও শিষ্টাচার ভোটারদের দৃষ্টি কাড়ছে। প্রচারে নিজের এবং বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত অতিরিক্ত ব্যানার-পোস্টার ও তোরণ নির্মাণ না করতে কর্মী-সমর্থকদের তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আত্মপ্রচার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। প্রবীণদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুদের প্রতি মমতা প্রকাশ করছেন। কয়েকজন ‘স্যার’ সম্বেধন করলে তিনি ‘স্যার’ বলতে নিষেধ করে বলছেন, আমাকে ভাইয়া বা আংকেল ডাকতে পারেন। নিজের ওপর যে প্রচণ্ড নির্যাতন হয়েছে, কিংবা মায়ের ওপর যে সীমাহীন প্রতিহিংসা হয়েছে, সে কথাও তিনি বলছেন না। কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনি প্রচারে বাগ্‌যুদ্ধ দেখা গেলেও তারেক রহমান কোনো জাতীয় নেতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তৃতা করছেন না। তারেক রহমান জ্বর ও সর্দি-কাশির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অসুস্থতা নিয়েই প্রচারে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় চিকিৎসক স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান পাশে থেকে তার স্বাস্থ্যের তদারকি করেন। স্ত্রীকে পাশে রাখার মাধ্যমে তারেক রহমান একটি ইতিবাচক ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ তুলে ধরেছেনÑযা ভোটারদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

সংস্কার ও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার

রাষ্ট্র সংস্কারের ধারণা প্রথম আসে তারেক রহমানের কাছ থেকেই। দলের সিনিয়র নেতারা এবং দেশের রাষ্ট্রচিন্তক ও খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করেন। এরপর ২০২৩ সালে এটি রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় রূপ নেয়। অন্যান্য দল সংস্কারের কথা বিবেচনা করে কয়েক বছর পর। দলগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব দফা প্রণয়ন করে তার সব বিএনপির ৩১ দফায় রয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের জুলাই চার্টারে বিএনপি স্বাক্ষর করে। গণভোটের ব্যাপারে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিএনপির হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেবে। কারণ সংস্কার বিএনপিরই ধারণা। নির্বাচনি প্রচার শুরু হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, তারেক রহমান হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার করছেন না। তারেক রহমান সম্প্রতি তার বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার দল গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে। তিনি জনসভায় বলেন, ভোটার ভাইবোনরা ভোটের দিন আপনারা দুটি ব্যালট পাবেন। একটি দলীয় মার্কার এবং আরেকটি গণভোটের। দয়া করে আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, আমার দেশ

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট