নুরুল আলম।
ইসলাম কোনো বিভেদ, সহিংসতা বা বিদ্বেষের ধর্ম নয়—ইসলাম মূলত শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার বার্তা বহন করে। ‘ইসলাম’ শব্দটির অর্থই শান্তি। মানবজাতির মধ্যে সৌহার্দ্য, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূল শিক্ষা।
কোরআন ও হাদিসে বারবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলা হয়েছে। নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি, জুলুম কিংবা অন্যায়কে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “যে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল”—এই বাণীই ইসলামের মানবিক দর্শনের স্পষ্ট প্রমাণ।
ইসলাম ধর্ম মানুষকে জাতি, বর্ণ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত না করে ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে একত্রিত হতে শেখায়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসবই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
বিশ্বের নানা প্রান্তে সংঘাত ও সহিংসতার সঙ্গে ইসলামের নাম জড়ানোর অপচেষ্টা দেখা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ইসলাম কখনোই সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রতাকে সমর্থন করে না। বরং ইসলাম শিক্ষা দেয় ধৈর্য, ক্ষমা ও সংযমের। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করে গেছেন—ক্ষমা ও ভালোবাসাই সংঘাত নিরসনের সবচেয়ে শক্তিশালী পথ।
বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অসংখ্য আলেম ও ধর্মীয় চিন্তাবিদ বারবার বলছেন, ইসলামের প্রকৃত চর্চা হলে সমাজে শান্তি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হবে। বিভেদ নয়, সংলাপ; ঘৃণা নয়, সহমর্মিতা—এই বার্তাই ইসলাম মানবজাতির সামনে তুলে ধরে।
আজকের অস্থির বিশ্বে ইসলামের এই শান্তির দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। ধর্মের নামে বিভাজন নয়, বরং ধর্মের মূল শিক্ষা অনুসরণ করেই গড়ে উঠতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সহনশীল সমাজ—যেখানে সহাবস্থানই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।