1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
২৫ বছর বয়সেই আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি ‘পরিণত’ হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল, বলছে নতুন গবেষণা - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

২৫ বছর বয়সেই আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি ‘পরিণত’ হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল, বলছে নতুন গবেষণা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

শিশু থেকে ৯০ বছর বয়সী ৪ হাজার ২০০ জনের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ৯ থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্কের বিকাশের একটি বিশেষ ধাপ চলে। গবেষকরা এই দীর্ঘ সময়কালকে ‘কৈশোর’ বা ‘অ্যাডোলেসেন্ট’ পিরিয়ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ছবি: ভিয়াফ্রেম

টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম ঘাঁটলেই আজকাল একটা কথা খুব চোখে পড়ে: ‘আপনার ফ্রন্টাল লোব এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।’ প্রতিশ্রুতি ভাঙার পরও প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে এটিই এখন অনেকের অজুহাত। কোনো বেফাঁস কাজ করে ফেললেই অনেকে নিউরোসায়েন্সের এই ‘ফ্রন্টাল লোব’ তত্ত্বের দোহাই দেন।

আমাদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব মূলত পরিকল্পনা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিচার-বিবেচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে মানুষের জীবন এমনিতেই অনেকটা অনিশ্চিত থাকে। এ সময় আমরা প্রায়ই অস্থির ও হঠকারী আচরণ করে ফেলি। এই ভুলগুলোর পেছনে কোনো ‘শারীরিক সীমাবদ্ধতা’ বা মস্তিষ্কের অপরিপক্বতাকে দায়ী করতে পারলে অনেকেই মনে একধরনের স্বস্তি পান। এই ভেবে আশ্বস্ত হন যে, এখনো তো আমার মস্তিষ্ক পুরোপুরি তৈরিই হয়নি!

কিন্তু ২৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই যে মস্তিষ্কের, বিশেষ করে ফ্রন্টাল লোবের বিকাশ পুরোপুরি থেমে যায়—এই ধারণাটি আসলে ভুল। অন্যান্য অনেক গুজবের মতো এই ‘২৫ বছরের’ ধারণার পেছনেও কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ঠিকই, তবে বিষয়টি যতটা সহজ ভাবা হয়, আসলে ততটা নয়। মস্তিষ্কের বিকাশ একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।

নতুন গবেষণা বলছে ২৫ বছর নয়, বরং ৩০-এর ঘরে পা দেওয়ার পরও আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশ চলতে থাকে। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, ২৫ বছর বয়সটা কখনোই মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের শেষ সীমারেখা ছিল না।

এই ‘২৫ বছর’ বয়সের ধারণাটি এল কোত্থেকে?

মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ২৫ বছরকে যে ‘জাদুকরী সংখ্যা’ ধরা হয়, তার সূত্রপাত হয়েছিল গত শতাব্দীর নব্বই দশকের শেষ এবং দুই হাজার দশকের শুরুর দিকের কিছু গবেষণার মাধ্যমে।

১৯৯৯ সালের একটি গবেষণায় গবেষকরা শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্কের বারবার স্ক্যান করে তাদের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা মূলত মস্তিষ্কের ‘গ্রে ম্যাটার’ বা ধূসর পদার্থের ওপর নজর দিয়েছিলেন, যাকে মগজের ‘চিন্তা করার অংশ’ বলা হয়।

গবেষকরা দেখেন, বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কের এই ধূসর পদার্থে ‘প্রুনিং’ বা একধরনের ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলে। শৈশবে আমাদের মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণ স্নায়বিক সংযোগ তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক তার অব্যবহৃত সংযোগগুলো ছেঁটে ফেলে এবং প্রয়োজনীয় সংযোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

পরবর্তীতে স্নায়ুবিজ্ঞানী নীতিন গোগতের নেতৃত্বে হওয়া আরেকটি প্রভাবশালী গবেষণায় ৪ বছর বয়সী শিশুদের থেকে শুরু করে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি দুই বছর অন্তর মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব পেছন থেকে সামনের দিকে পরিপক্ব হয়।

অর্থাৎ, মাংসপেশির নড়াচড়ার মতো প্রাথমিক কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো আগে তৈরি হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা সামাজিক আচরণের মতো উন্নত কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যে অংশ, ২০ বছর বয়সের স্ক্যানেও সেগুলো পুরোপুরি পরিপক্ব দেখা যায়নি।

মজার ব্যাপার হলো, সেই গবেষণার তথ্য ২০ বছর বয়সেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই গবেষকরা তখন নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে ঠিক কোন বয়সে গিয়ে এই বিকাশ শেষ হয়। তখন একটি সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২৫ বছর বয়সকে ধরে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণাটিই বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, ২৫ বছর বয়সেই বুঝি মস্তিষ্কের বিকাশ শেষ হয়ে যায়।

নতুন গবেষণায় যা জানা যাচ্ছে

আগের সেই গবেষণগুলোর পর স্নায়ুবিজ্ঞান বা নিউরোসায়েন্স এখন অনেক দূর এগিয়েছে। এখন বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে আলাদাভাবে ভাবছেন না। বরং মস্তিষ্কের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশ কতটা কার্যকরভাবে যোগাযোগ করছে, সেটাই এখন গবেষণার মূল বিষয়।

সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বড় গবেষণা হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের গঠন বা ‘হোয়াইট ম্যাটার’-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট ম্যাটার হলো দীর্ঘ স্নায়ুতন্তু, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ ও মেরুদণ্ডের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করে। গবেষকরা মূলত দেখতে চেয়েছেন মস্তিষ্ক আসলে কীভাবে তার নেটওয়ার্ক সাজায়।

শিশু থেকে ৯০ বছর বয়সী ৪ হাজার ২০০ জনের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ৯ থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্কের বিকাশের একটি বিশেষ ধাপ চলে। গবেষকরা এই দীর্ঘ সময়কালকে ‘কৈশোর’ বা ‘অ্যাডোলেসেন্ট’ পিরিয়ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

একজন পুরোদস্তুর প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিজেকে ‘কিশোর’ ভাবাটা একটু খটকা লাগতে পারে। তবে গবেষকরা এই শব্দটি দিয়ে মূলত বুঝিয়েছেন যে, এ সময়ে মস্তিষ্কে বড় ধরনের পরিবর্তন চলতে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের এই দীর্ঘ ‘কৈশোর’ পর্বে দুটি প্রধান কাজ চলে—’সেগ্রিগেশন’ বা বিভাজন এবং ‘ইন্টিগ্রেশন’ বা সংযোজন। সহজ কথায়, সেগ্রিগেশন হলো একই ধরনের চিন্তাগুলোকে এক জায়গায় বা ‘পাড়ায়’ গুছিয়ে রাখা। আর ইন্টিগ্রেশন হলো সেই পাড়াগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ‘মহাসড়ক’ তৈরি করা। ৩০-এর কোঠার শুরুর আগপর্যন্ত মস্তিষ্কে এই নির্মাণকাজ চলতে থাকে এবং তা ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ কাঠামো পায় না।

বিষয়টি বুঝতে শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থার কথা ভাবা যাক। সাধারণ রাস্তায় বারবার থামতে হয়, গাড়ি বদলাতে হয়। কিন্তু ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ বা দ্রুতগতির লেন থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়। মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ বাড়ে, ফলে জটিল চিন্তাগুলো দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হয়।

তবে এই নির্মাণকাজ অনন্তকাল ধরে চলে না। ৩২ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে এসে একটি বড় বাঁকবদল ঘটে। তখন মস্তিষ্ক নতুন ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ বা সংযোগ সড়ক তৈরি কমিয়ে দেয়। এর বদলে যেসব পথ বা সংযোগ আমরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি, মস্তিষ্ক সেগুলোকে স্থায়ী করতে বা ‘লক’ করতে শুরু করে।

সহজ কথায়, টিনএজ এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্ক সংযোগ তৈরির কাজ করে। আর ৩০-এর পর শুরু হয় সেই সংযোগগুলোকে গুছিয়ে স্থায়ী করার পালা।

২০-এর কোঠায় আমাদের মস্তিষ্ক কি পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়? বিজ্ঞান বলছে, না। এ সময় আসলে আমাদের মস্তিষ্ক ‘নির্মাণাধীন’ থাকে। প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আমরা নিজেদের মস্তিষ্ককে আরও শক্তিশালী ও শানিত করতে পারি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’র মধ্যে। এটি হলো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে মস্তিষ্কের নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

যদিও মস্তিষ্ক সারাজীবনই পরিবর্তনশীল, তবে ৯ থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত সময়টি এর কাঠামোগত বিকাশের জন্য সবচেয়ে মোক্ষম সময়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সময় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ভারী শরীরচর্চা বা অ্যারোবিক ব্যায়াম, নতুন কোনো ভাষা শেখা কিংবা দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক শখ মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়াতে দারুণ কাজ করে। অর্থাৎ, মস্তিষ্ককে যত কাজে লাগাবেন, এটি তত ধারালো হবে। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি যদি ৩০ বছর বয়সে একটি তীক্ষ্ণ ও কর্মক্ষম মস্তিষ্ক চান, তবে ২০-এর কোঠাতেই একে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে। মস্তিষ্ককে অলস বসে থাকতে দেওয়া যাবে না। তবে মনে রাখবেন, ভালো কিছু শুরু করার জন্য কখনোই খুব দেরি হয়ে যায়নি।

২৫ কিংবা ৩২ বছর বয়সে পৌঁছালেই যে হঠাৎ করে কোনো জাদুর সুইচ অন হয়ে যাবে আর আপনি পুরোদস্তুর সমঝদার মানুষ হয়ে যাবেন—বিষয়টি তেমন নয়। আপনার মস্তিষ্কের মতো আপনি নিজেও একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘নির্মাণ প্রকল্প’র অংশ।

তাই কবে পুরোপুরি ‘বড়’ বা প্রাপ্তবয়স্ক হবেন, সেই অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। বরং মস্তিষ্ক গঠনে এখনই সচেতন হোন, সক্রিয় সিদ্ধান্ত নিন। ভুল করতে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, আপনার জীবনের এই নির্মাণকাজের ‘ঢালাই’ কিন্তু এখনো পুরোপুরি জমে যায়নি। তাই নিজেকে পছন্দমতো গড়ে তোলার সুযোগ এখনও আপনার হাতেই আছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট