1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ভোট না দিলে কি গোনাহ হয়? জেনে নিন - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

ভোট না দিলে কি গোনাহ হয়? জেনে নিন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত।

ভোটের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার দেশের অভিভাবক নির্ধারণের সুযোগ পায়। একদিকে এটি যেমন তার গণতান্ত্রিক অধিকার ঠিক একই ভাবে ভোট দিয়ে দেশের জন্য একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারণ করাও একজন নাগরিকের কর্তব্য। বর্তমান সময়ে অনেকেই সুযোগ থাকা সত্যেও ভোট দিতে যায় না। কিন্তু একজন সচেতন নাগরিক ও মুসলিম হিসেবে তার ভোট দিতে যাওয়া উচিত।

এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে সূরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-

مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً حَسَنَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ نَصِیۡبٌ مِّنۡہَا ۚ وَمَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً سَیِّئَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ کِفۡلٌ مِّنۡہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ مُّقِیۡتًا অর্থ- যে ব্যক্তি কোন ভালো সুপারিশ করে, তার তাতে অংশ থাকে, আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ সুপারিশ করে, তারও তাতে অংশ থাকে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন।

অর্থাৎ ভোটে অংশগ্রহণ করে একজন সঠিক মানুষের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়াও একজন মুসলমানের দায়িত্ব। হজরত মুফতি মুহাম্মাদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ সংক্রান্ত তার একটি বইতে লিখেছেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট হচ্ছে তিনটি বিষয়ের সমষ্টি। ১. সাক্ষ্য প্রদান ২. সুপারিশ ও ৩. প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব তুলে দেয়া।

এর মধ্যে সাক্ষ্যের বিষয়টি মৌলিক। অর্থাৎ কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো তার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, লোকটি ভালো এবং যোগ্য। এখন যদি যথাযথ জায়গায় সিল দিয়ে এ সাক্ষ্য প্রদান করা হয় তবে সে হবে সত্য সাক্ষী অন্যথায় হবে মিথ্যা সাক্ষী। আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কবিরা গুনাহ ও হারাম কাজ। সুনানে তিরমিজির এক হাদিসে মিথ্যা সাক্ষ্যকে শিরকের সমান অপরাধ বলা হয়েছে।

এই ভোটের মধ্য দিয়ে হলেও মন্দের ভালো নির্ধারণের কিছুটা সুযোগ পাওয়া যায়। একজন ভোটার যদি তার নিজের ভোটটি একজন তুলনামূলক ভালো ব্যক্তিকে না দেয় তবে এ সুযোগে একজন খারাপ প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে আরও বেশী করে সমাজের ও দেশের ক্ষতি করবে।

কারও ব্যাপারে যদি ইসলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ-বিরোধী হওয়ার সুস্পষ্ট আলামত থাকে তবে ওই অসৎ ব্যক্তির বিজয় ঠেকানোর চেষ্টা করতে হবে ভোটারাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। মোটকথা, বুদ্ধি-বিবেচনা খরচ করে, ভেবে-চিন্তে ভোটারাধিকার প্রয়োগ করতে হবে মন্দের ভালো অথবা অন্তত কম মন্দের পক্ষে।

ভোট যেহেতু মানুষের পবিত্র আমানত। এর মাধ্যমে একজন প্রতিনিধি সমাজের সকল কিছুর দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিবে। সুতরাং প্রতিনিধিকে হতে হবে অবশ্যই সৎ, যোগ্য, সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও দায়িত্বপালনে নিরপেক্ষ। সর্বোপরি দায়িত্ব পালনে অন্তরে জবাবদিহিতার ভয় পোষণকারী।

অসৎ অযোগ্য অশিক্ষিত ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে প্রনিতিধি নির্বাচন করলে জাতির ভাগ্যে মন্দ বা ধ্বংসাত্মক ছাড়া ভালো কিছু হবে না। মনে রাখতে হবে ভোট প্রদান করা শুধু ব্যক্তির সঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীর বিষয়টি ব্যক্তি জীবন থেকে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত।

এ প্রসঙ্গে এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই (কেয়ামতের দিন) তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। ’ (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

তাই ভোটারের যেমন উচিত সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া আবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উচিত ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সার্বিক বিষয়ে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আর বিপরীত হলে ভোটার ও প্রার্থী উভয়কেই অপরাধের দায়ভার ও শাস্তি ভোগ করতে হবে।

সুতরাং ভোট দেয়া কিংবা না দেয়া হারাম, এ সব কথায় বা গুজবে কান না দিয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসা ঈমানের একান্ত দাবি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট