জোবায়ের সোহাগ, বিশেষ প্রতিবেদক।
ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একটু সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে নতুন দিগন্তের খোজে। যারা সবুজ অরণ্য আর পুরাকৃতি আর সমুদ্রের মন মাতানো ঢেউ পাড়ে আছড়ে আছড়ে পড়া শব্দের খোজে ছুটে চলে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তাদের যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি জামালপুর।
জামালপুর সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা জুড়ে বাংলাদেশ অংশে বিশাল গারো পাহাড়। লাউচাপড়া ও ডুমুরতলা মৌজায় বিভক্ত পাহাড় আর বনভূমি এলাকাটি বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। মৌজা দুটির পাহাড়ের ঢাল দিয়ে অবস্থিত লাউচাপড়া, পলাশতলা, দিঘলাকোনা, বাবলাকোনা, বালিজোড়া, গারোপাড়া, শুকনাথপাড়া, সোমনাথপাড়া, মেঘাদল, সাতানীপাড়া, বালুঝুড়ি গ্রামে গারো ছাড়াও রয়েছে হাজং, কোচদের বাস। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিয়ে স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ি আদিবাসী গ্রামগুলো। আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন এক নজর দেখতে এখানে ছুটে আসে ভ্রমণ প্রিয়াসীরা। নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে প্রতি বছরেই শীত মৌসুমে ভিড় করে অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক। ভ্রমণ পিপাসুদের সরগমে পুরো শীত মৌসুম লাউচাপড়া হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। আদিবাসীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর ছোট-বড় অস্থায়ী দোকান স্থান পায় পিকনিক স্পটে। পুরো শীত মৌসুম জুড়ে আদিবাসীদের মাঝে লক্ষ্য করা যায় উৎসবের আমেজ। এ সময় নির্জন নিভূত পাহাড়ি এই অঞ্চলটি অসংখ্য মানুষের পদভারে হয়ে উঠে মুখরিত।
১৯৯৬ সালে গারো পাহাড়ে ২৬ একর জায়গা জুড়ে পিকনিক স্পট নির্মাণ করে। পিকনিট স্পটের প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর আরও ৬০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। এই ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে সারি সারি সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিশ্রামের জন্য রেস্টহাউস, দুটি কটেজ, গারো সম্প্রদায়ের আচিক মান্দি ভাস্কর্য ও পাহাড়ে আরোহণের জন্য সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। স্পটে শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার সহ বেশকিছু রাইড এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন। বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন স্পটটিকে আরও পর্যটকবান্ধব করার লক্ষ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ আহ্বানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে উন্নয়নের কারণে এই নৈসর্গিক স্থানের পরিবেশ-প্রতিবেশ যাতে বিপন্ন না হয়, সেটিও লক্ষ রাখা হবে।