স্পোর্টস ডেস্ক
জাহানারার অভিযোগে সেই মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে আলোচিত যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে আনা চার অভিযোগের তদন্ত শেষে দুটি অভিযোগ সত্যপ্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। এর ভিত্তিতে তাকে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করারসিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে নামলে সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসওদেওয়া হয়েছে। জনা যায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ।
চীনে অবস্থানরত মঞ্জুরের বিরুদ্ধে মোট চারটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। বিসিবিরগঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, এর মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে বাকি দুটিঅভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মঞ্জুরের আচরণ পেশাগত নীতিমালা ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তার কিছু কর্মকাণ্ড দেশেরসর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকায় বর্ণিত অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে বোর্ডের নিয়ম ও প্রচলিত আইনঅনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি।
২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানারা আলম প্রকাশ্যে মঞ্জুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিরঅভিযোগ তোলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এরপর গত ৯ জানুয়ারি বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি তারিক উল হাকিম–কেপ্রধান করে প্রথমে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যা পরে পাঁচ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর অবশেষে ২ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে বিসিবিতে। কমিটির প্রধান নিজ হাতে সেই প্রতিবেদন বোর্ড সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন।
রোববার দুপুরে অনলাইনে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রমাণিত অভিযোগেরভিত্তিতে মঞ্জুরকে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায়বিসিবি তার পাশে থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এখন সবার নজর বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতাপ্রতিষ্ঠায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।