মোহাম্মদ জাকির ইসলাম,শেরপুর প্রতিনিধি
বাঁচা–মরার ম্যাচ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অবিশ্বাস্য ৩৫ শটের টাইব্রেকার নাটকে। শেষ হাসিটা হেসে বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শেরপুর
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, নখ কামড়ানো অপেক্ষা আর একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত—অনূর্ধ্ব–১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে শেরপুর ও গাজীপুরের লড়াইকে সংজ্ঞায়িত করতে এর চেয়েও বেশি বিশেষণ দরকার। বাঁচা–মরার এই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অবিশ্বাস্য ৩৫ শটের টাইব্রেকার নাটকে। শেষ হাসিটা হেসে বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শেরপুর জেলা দল।
শেরপুরের জয়ের দিনে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জামালপুর জেলা দল। কিশোরগঞ্জের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪–৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপার মঞ্চে পৌঁছেছে তারা। আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শেরপুর ও জামালপুর।
এদিন ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পুরস্কার পায় শেরপুর। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের অষ্টম মিনিটে ইমরান আলীর গোলে লিড নেয় দলটি। তবে গাজীপুর হাল ছাড়েনি। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরান সিয়াম।
নির্ধারিত সময় শেষে ১–১ গোলে ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। দুই দল পাঁচটি করে শট নেওয়ার পরও ফল না আসায় খেলা যায় সাডেন ডেথে। সেখানে দীর্ঘ শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ১৮–১৭ শটে জয় নিশ্চিত করে শেরপুর।
পরিসংখ্যানেও ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছাপ। ম্যাচে শেরপুর নেয় ৪টি অন–টার্গেট শট, আদায় করে ৫টি ফ্রি কিক ও ৩টি কর্নার। গাজীপুরের অন–টার্গেট শট ছিল ৩টি, সঙ্গে ৬টি ফ্রি কিক ও ৩টি কর্নার।
এর আগে জামালপুল স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক জামালপুর জেলা দল মুখোমুখি হয় কিশোরগঞ্জের। নির্ধারিত সময়জুড়ে দুই দলের আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনার কমতি ছিল না। তবে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে স্নায়ুর পরীক্ষায় ৪–৩ গোলে জয় তুলে নেয় জামালপুর, নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।
দুদরের পরিসংখ্যানেও ছিল সমতা। ম্যাচে জামালপুর নেয় ২টি অন–টার্গেট শট, আদায় করে ৪টি ফ্রি কিক ও ২টি কর্নার। কিশোরগঞ্জের অন–টার্গেট শটও ছিল ২টি, সঙ্গে ৩টি ফ্রি কিক। টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন জামালপুরের মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরমান।