জিহাদুল ইসলাম (জিহাদ) ঢাকা
৬৫ বছরের আব্বাজানকে দেখেছেন এবং তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেছেন কোটি কোটি মানুষ। সৃষ্টিকর্তা মনে হয় এই দোয়া কবুল করে বাবার মতো এই মানুষটির অপারেশন সফল করে আমাকে করেছেন ধন্য। ৪৫টি বছর যে মানুষটি গলার সামনে টিউমারের অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন, সেই মানুষটি আজ কেমন আছেন?
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন জীবনযাপন থেমে যাওয়ার পথে, ঠিক তখনই একটু প্রশান্তির আশায় এই মানুষটি আমার কাছে আসে। প্রথম দেখায় আমি তাঁর কষ্ট অনুভব করতে পারলাম এবং তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, “আপনি ভালো হয়ে যাবেন।”
আমি তাকে নিবিড়ভাবে দেখলাম এবং তাঁর রোগটি সনাক্ত করে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলাম: বাবার বয়সী এই মানুষটিকে কি কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারবো? উত্তরটা নিজের কাছেই রেখে দিলাম। তাঁর স্বজনদের কাছে জানতে চাইলাম, তাদের চাওয়া কী। সবার মুখে একটাই কথা— “আল্লাহ ভরসা, আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি”। রোগীর কথা ছিল, “আমি রোগমুক্ত হবো, ইনশাআল্লাহ।”
এরপর আর আমি থেমে থাকতে পারলাম না। তাঁর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কয়েক দফা মেডিকেল বোর্ড করে আমি আমার টিমকে নিয়ে গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকলের দোয়ায় ও সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে অপারেশনটি সম্পন্ন করি। অপারেশনের পর যখন তাঁর স্বজনদের বলি যে অপারেশন সফল হয়েছে, এই কথা শোনার পর তাদের ভেতরে যে অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে, সে অনুভূতি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পিতৃহারা এক সন্তান যেন তার বাবাকে ফিরে পেয়েছে। এই দৃশ্যটি কোটি মানুষ দেখেছে এবং তাদের মনেও নাড়া দিয়েছে। তাঁর সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করেছেন।
অপারেশনের পর এই মানুষটিকে দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকেই অনুরোধ করেছেন: সুস্থতার পর যেন তাকে দেখতে পাই। প্রায় ৩ মাস পর “পেশেন্ট ফলো-আপ ইন হাউস”–এ তাঁর বাড়িতে ফলো-আপ করতে যাওয়ার পর দেখলাম— যে মানুষটি প্রায় মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, একটি অপারেশনেই নতুন একটি জীবন ফিরে পেয়েছেন। তাঁর নতুন জীবনের কর্মকাণ্ড এবং আমাদের জন্য তাঁদের ব্যাপক আয়োজন করে।