নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে যখন গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে তখন যশোর জেলাতেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট। সেনা কল্যাণ সংস্থার সিলিন্ডার ছাড়া বড় কোনো কোম্পানির এলপিজি গ্যাস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) খুচরা বিক্রেতারা জানায় কয়েকদিন আগে সীমিত পরিসরে অতিরিক্ত দামে গ্যাস মিললেও গত ১০-১৫ দিন ধরে অনেক ডিলার পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বছরের শুরু থেকেই সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটে শহর সহ, উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন এলাকা ও দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, আর যদিও পাওয়া যাচ্ছে তাও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিলে গ্যাস মিলছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে যশোরে তার ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে, যশোরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
সংকটের কারণে যশোরের শহরসহ অধিকাংশ এলাকাতেও বাসাবাড়িতে গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। রান্নাবান্না ও গোসলের জন্য পানি গরম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যশোর শহর ও উপজেলা পর্যায়ে মাটির চুলার ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। এই সুযোগে এক শ্রেণির সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে যশোর জেলাতে প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকানে রান্না হয় গ্যাসের চুলায়। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে সিলিন্ডার মজুদদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।