সংবাদ এই সময় অনলাইন।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ’-এর দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি: মিনহাজ উদ্দিন
দীর্ঘ ছয় দিন ধরে চলতে থাকা শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের সফল আলোচনার পর শুক্র ও শনিবার—এই দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বন্দরে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ’-এর দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।
তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার চুক্তি থেকে সরকার সরে না এলে আগামী রবিবার থেকে আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আমরা মোট চারটি দাবি উত্থাপন করেছি। আমাদের প্রধান দাবি হলো এনসিটি চুক্তি বাতিল করা। উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সাথে কথা বলে আগামী দুই দিনের মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
শ্রমিকদের অন্য তিনটি দাবি ছিল, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ।
ইব্রাহিম খোকন আরও জানান, উপদেষ্টা তাদের দুটি দাবি ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছেন। এছাড়া বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ঐক্য পরিষদের অপর সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সামনে পবিত্র রমজান মাস। তাই রমজানের প্রতি সম্মান এবং উপদেষ্টার আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা শুক্রবার ও শনিবারের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছি। উপদেষ্টা আমাদের কাছে দুই দিন সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি এনসিটি চুক্তি থেকে সরে না আসে, তবে আমরা রবিবার থেকে পুনরায় কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হব।’
বন্দর শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘কোনোভাবেই এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে এই চুক্তি প্রতিহত করা হবে।’
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের এই দীর্ঘ কর্মবিরতির ফলে গত ছয় দিন ধরে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে মারাত্মক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। শ্রমিকরা কাজে ফেরার ঘোষণায় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।