ফিচার ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
বিজ্ঞান বলছে, ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারার উপর। কী খাচ্ছি, কতটা হাঁটছি, কতটা ঘুমাচ্ছি—এসব ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতের বড় বিপদ ঠেকাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অন্তত ৩০-৫০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্যানসার—শুধু একটি রোগ নয়, অনেকের জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা কমাতে হলে দরকার সময়মতো সচেতনতা, আর সেই সচেতনতার মূল দুটো স্তম্ভ—খাদ্য ও ব্যায়াম।
বিজ্ঞান বলছে, ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারার উপর। কী খাচ্ছি, কতটা হাঁটছি, কতটা ঘুমাচ্ছি—এসব ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতের বড় বিপদ ঠেকাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অন্তত ৩০-৫০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
খাদ্যে সচেতনতা: প্রতিদিনের প্লেটেই প্রতিরক্ষা
খাদ্যই আমাদের প্রথম ও অন্যতম বড় ওষুধ। অতিরিক্ত চিনি, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং কোষে অস্বাভাবিক বিভাজনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে কোমল পানীয়, মিষ্টিজাত খাবার ও ভাজা-পোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
এর পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় রাখুন—হলুদ, রসুন, টমেটো ও শাকসবজি,
বেরি জাতীয় ফল ও বাদাম, অলিভ অয়েল ও ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ খাবার।
এসব খাবারে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-নিরোধক উপাদান কোষকে সুস্থ রাখে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ব্যায়ামে সুস্থতা: নড়াচড়া মানেই নিরাপত্তা
যাঁরা সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা বা মাঝারি শারীরিক ব্যায়াম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তন, কোলন ও জরায়ুমুখের মতো একাধিক ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ব্যায়াম দেহের হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখে, শরীরকে ডিটক্স করে, মানসিক চাপ কমায়।
সহজ কিছু ব্যায়াম: প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার ঘরের কাজ বা স্ট্রেচিং
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নেও ক্যানসার প্রতিরোধ
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রিয় কাজে মনোযোগ দেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং: না খাওয়াতেও মিলছে সুফল
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় উপবাসে থাকা (যেমন: ১৪–১৬ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে থাকা) দেহের কোষে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া শুরু করে, যা কোষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণে সাহায্য করে—এটি ক্যানসার কোষ গঠনের সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়।
শেষ কথা
খাদ্য ও ব্যায়াম—এ দুটি সহজ অভ্যাস ক্যানসারের মতো ভয়ংকর রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে। কেমোথেরাপি বা অপারেশনের আগে যদি আমরা প্রতিদিনের অভ্যাসেই সচেতন হতে পারি, তাহলে ক্যানসার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আজ থেকেই শুরু হোক সচেতন জীবন। ছোট ছোট ভালো অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে বড় রকমের নিরাপত্তা।