মো. মেহেদী হাসান হাসিব
প্রথম দিনেই জমে উঠেছে অলি-গলির ইফতার বাজার
রোজার প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লার অলি-গলির ইফতারের বাজারগুলো জমে উঠেছে
বছর ঘুরে আবার শুরু হয়ে গেলে মুসলমানদের সংযমের (রোজা) মাস রমজান। দেশও পেয়েছে নতুন সরকার। রোজার প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লার অলি-গলির ইফতারের বাজারগুলো জমে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পর থেকেই আগারগাঁও এবং এর আশেপাশের এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সামনে প্রতি বছর ইফতারসামগ্রী বিক্রি করেন মো. মামুন। তিনি বলেন, বেগুনি, আলুর চপ, পিঁয়াজু প্রতি পিস পাঁচ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় আকারে ছোট করে ফেলা হয়েছে। বুট ও বুন্দিয়া প্রতি ১০০ গ্রাম গত বছর দাম ছিল ২০ টাকা, যা এ বছরও একই। ডিমের চপ প্রতিটি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
মামুন বলেন, গত বছর যে দামে বিক্রি করতাম এবার সেই দামে বিক্রি করছি। কারণ কাঁচামালের দাম তেমন একটা বৃদ্ধি হয়নি।
বিভিন্ন অলি-গলিতে বসছে ইফতার বাজার
এদিকে বিভিন্ন অলি-গলির ইফতার বাজার ঘুরে দেখা যায় এসব ইফতার সামগ্রীর দোকানে সাজানো আছে বাহারি রকমের ইফতারসামগ্রী, যেন অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোকেও হার মানাবে।
আগারগাঁওয়ের ইসি ভবনের সামনে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছেন জাহিদুল। তিনি বলেন, অন্যরা ছোট আকারে বেগুনি-পিঁয়াজু বিক্রি করছে। তবে আমার এখানে বড় আকারের বেগুনি-পিঁয়াজু রয়েছে, যার প্রতিটির দাম ১০ টাকা করে। এছাড়া আমার এখানে মুড়ি, বুন্দিয়া ও ছোলাও রয়েছে।
আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারে ফুটপাতের পাশে ইফতারসামগ্রী বিক্রেতা মো. হেলাল বলেন, আলুর চপ ও পিঁয়াজু প্রতি পিচ ৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুনির দাম প্রতি ১০ টাকা। বেগুনির দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বললেন কাঁচা বেগুনের দাম বেশি। এছাড়া শাসলিক প্রতি পিচ ৫০ টাকা, চিকেন টিকা প্রতি পিচ ১৫ টাকা এবং বিফ টিকা প্রতি পিচ ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। চিকন জিলাপি প্রতি ১০০ গ্রামের দাম ৩০ টাকা আর মোটা জিলাপির প্রতি ১০০ গ্রামের দাম ২০ টাকা। আগেরও বছরেরও একই দামে বিক্রি করেছি আমরা।
রাস্তার পাশের ইফতারসামগ্রী থেকে রেস্তোরাঁর ইফতারসামগ্রীর দামের পার্থক্য প্রতিটিতে ৫ থেকে ১০ টাকা
আগারগাঁওয়ের অভিজাত রেস্তোরাঁ হলো সুলেমান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কাবাব। সেখানে গেলে ইফতার সামগ্রী নিয়ে কথা হয় রেস্তেরার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নুরুল আলম বলেন, আমাদের এখানে মোটা জিলাপির কেজি প্রতি দাম ২৪০ টাকা আর চিকন জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। বুন্দিয়া ২২০ টাকা কেজি,সিদ্ধ বুট বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা করে। নিমকি প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার পিঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ, শাক পাকুরা পিস প্রতি দাম ধরা হয়ে ১০ টাকা।
নুরুল আলম বলেন, প্রতি পিচ ডিম চপ ৩০ টাকা, ভেজিটেবল টোস ৩০ টাকা, চিকেন টোস ৫০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা, চিকেন রোল ৫০ টাকা এছাড়া সকল প্রকার টিকা বিক্রি করা হচ্ছে পিচ প্রতি ৫০ টাকা করে। চিকেন সাসলিক ৭০ টাকা। চিকেনসহ বিভিন্ন রকমের কাবাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা। হাড়ির আকার অনুযায়ী ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকার হালিম বিক্রি করছে রেস্তোরাঁ।
সরজমিনে দেখা যায়, অলি-গলি, রাস্তার পাশের ইফতারসামগ্রী থেকে রেস্তোরাঁর ইফতারসামগ্রীর দামের পার্থক্য প্রতিটিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর যেসব কেজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে দামের পার্থক্য ১০ থেকে ২০ টাকা করে।