1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ইফতার করানো কেন এত মর্যাদাপূর্ণ? - সংবাদ এইসময়
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

ইফতার করানো কেন এত মর্যাদাপূর্ণ?

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান বাবুল
সম্পাদক সংবাদ এই সময়।

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। শুধু নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও এ মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষ করে রোজাদারকে ইফতার করানো এমন একটি আমল, যা সামান্য খরচে অসীম সওয়াবের দ্বার খুলে দেয়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সৎকর্ম ও সহযোগিতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একজন ব্যক্তি সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখে।

তার সেই ইবাদত পূর্ণ করতে সামান্য খাবার দিয়ে সাহায্য করা মানে তার ইবাদতের অংশীদার হওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ আমলের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৪৬)

এই হাদিস আমাদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ।

একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করতে পারে। অর্থাৎ সামর্থ্য কম হলেও এই আমল থেকে কেউ বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

এখানে খুব সুন্দর করে প্রমাণিত হয়েছে যে ইফতার করানো শুধু দান নয়, এটি আল্লাহর কাছে প্রিয় একটি বিশেষ ইবাদত। এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও উদারতার চর্চা হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা নেককারদের একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।

’ (সুরা : আল-ইনসান, আয়াত : ৮)
রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয়, অন্যদিকে দাতার অন্তরে তাকওয়া ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়।

রোজাদারকে ইফতার করানোর আরেকটি বড় দিক হলো, এটি সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদে, মহল্লায় বা পরিবারের মধ্যে একসঙ্গে ইফতার করা পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়। ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ইফতার আয়োজন যেন প্রদর্শন, অপচয় বা প্রতিযোগিতার মাধ্যম না হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৭)

অতএব, আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতা ও ইখলাসই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অল্প হলেও ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ইফতার করানোই প্রকৃত সওয়াবের কারণ।

রমজান আমাদের শেখায়, নিজের জন্য ইবাদত করার পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সাহায্য করাও বড় নেক আমল। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও আমরা অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। তাই আসুন, এই বরকতময় মাসে আমরা রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট