জোবায়ের সোহাগ,
শেরপুরের নকলা উপজেলায় ঘুমের মধ্যে এক কন্যাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আরেক কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের চর বসন্তী (মধ্যপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম মরিয়ম (৬)।
সে ওই এলাকার বাবু মিয়ার মেয়ে। আহত মেয়ে মিম (৪) বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাবু মিয়া (৩২) পেশায় অটোরিকশাচালক। তার স্ত্রী হাসিনা বেগমের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয়।
তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত বুধবার দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি শালখাতে যান তিনি। ওই রাতে বাবু মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে রেখে দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যান।
পরে বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে শনিবার রাতে বাবু মিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে নকলায় চর বসন্তীর বাড়িতে আসেন। ঘটনার সময় বাবু মিয়ার স্ত্রী বাবার বাড়িতেই ছিলেন।
শনিবার রাতে বাবু মিয়া তার দুই মেয়েকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমান। রাতের কোনো এক সময় মরিয়ম নিহত হয় এবং মিম গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনেরা বিষয়টি টের পেয়ে বাবু মিয়াকে আটক করে ঘরে তালাবদ্ধ রাখেন এবং সকালে পুলিশে খবর দেন।
আহত শিশু মিমকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নকলা উপজেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে অভিযুক্ত বাবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।