কাজী নূরনবী
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র অভি। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছিল সে। আর মাত্র কিছুদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা তারপর উচ্চতর ডিগ্রি, স্বপ্নের কর্মজীবন পদার্পণ,পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়,কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নের জীবন আর শুরু হলো না। সবকিছু যেন এক নিমিষেই থেমে গেল।
আজ আদরের সন্তানের নিথর দেহ কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে বাবা রমেশ চন্দ্রকে। যে কাঁধে ভর করেই সন্তানকে বড় করেছিলেন,সেই কাঁধেই আজ সন্তানের মরদেহ এর চেয়ে ভারী বোঝা আর কিছু হতে পারে না। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের বড় ছেলে অভি। ছোট মেয়ে এবার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই সন্তানকে ঘিরেই ছিল তার যত স্বপ্ন, যত আশা। কিন্তু আজ সেই স্বপ্নগুলো নদীর জলে ভেসে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার ১৬.০১.২৬ ইং বিকেলে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহাশ্মশান সংলগ্ন নদী থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। সাত দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধানে থাকা অভির পরিবারের কাছে সেই খবর পৌঁছাতেই মুহূর্তে ভেঙে পড়ে পরিবারটি। বুকভরা শঙ্কা আর অজানা আতঙ্ক নিয়ে তারা ছুটে আসে নদীর তীরে। সন্তানের এই নিথরদেহ নদীর তীরে পরে থাকা অবস্হা দেখে তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পরে।