অনুসন্ধান প্রতিবেদন
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নস্য প্রহরী সুবির ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি স্কুলে রাত যাপন করেন না,অথচ সুবির ভট্টাচার্য সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। সুবির ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলেন আমাদের দিয়ে টয়লেট থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়।
ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে।তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নস্য প্রহরী সুবির ভট্টাচার্য তিনি রাতে স্কুলে থাকেন না, এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন আমি কখনো তাকে রাতে স্কুলে থাকতে দেখি নাই মাঝে মধ্যে বিকালে এসে লাইট জ্বালিয়ে চলে যায় পরের দিন সকালে এসে লাইট বন্ধ করেন। ওই ব্যক্তি আরো বলেন কিছু দিন আগে টিউবওয়েলের পানির ভিতরে বিদ্যুতের তার পরে ছিল এবং ওই তারে বিদ্যুত ও ছিল সুবিরকে প্রথমে বলেছি যে এই তারে বিদ্যুত রয়েছে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তার খুলে রাখার জন্য বলেন কিন্তু ওই মুহূর্তে তার খুলে রাখে নাই, কিছু দিন পর দেখি তার সরিয়ে ফেলেছেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন আমরা স্কুলে পড়তে আসছি স্কুল পরিষ্কার ও টয়লেট পরিষ্কার করতে আসিনি স্যারেরা ও স্কুলের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সুবির সবাই মিলে আমাদের দিয়ে সপ্তাহে দুই-তিন দিন টয়লেট, ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করান পাশাপাশি স্কুলের সব ধরনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আমাদের দিয়ে করানো হয়ে থাকে, যদি কাজ না করি তাহলে আমাদের খেলাধুলা করতে ব্যাট ও বল দেয় না সুবির ভট্টাচার্য।
শিক্ষার্থীরা বলেন আমাদের খেলাধুলা করতে ব্যাট ও বল দিয়েছেন তবে ব্যাট ও বল চাইলে বিভিন্ন কাজ করানোর পরে খেলতে দেওয়া হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা না করে দিলে সুবির ভট্টাচার্য ব্যাট ও বল খেলতে দেয় না। এক গার্ডিয়ান সুবিরের বিষয়ে বলেন যে উনি তো ভালো তাহলে আপনারা উনার বিষয়ে এগুলো বলছেন কেন পরে ওই গার্ডিয়ানকে বলা হয় যে সুবির শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুলের বিভিন্ন ধরনের কাজ করান, তিনি বলেন আপনাদের কে বলেছে তখন ওই খানে দুই শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছে স্কুলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন হে আমাদের দিয়ে সুবির টয়লেট পরিষ্কার করায় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ ও করান।
তখন ওই গার্ডিয়ান বলে তাহলে তো আর কিছু বলার নেই, আমি বাসায় গিয়ে আমার বাচ্চার কাছে জানবো যে আমার বাচ্চাকে দিয়ে কখনো কাজ করিয়েছে কিনা আজ সকালে তার সাথে কথা বলে জানা গেছে ওই গার্ডিয়ানের বাচ্চাকে দিয়েও কাজ করিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সুবির ভট্টাচার্য সরকারি বেতন নিচ্ছেন অথচ সরকারি নিয়ম অমান্য করে চলছেন।
ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সুবিরের কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয়েছিল এর পরে যদি সে স্কুলে রাতে না থাকে আর তা জানা যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্রধান শিক্ষক বলেন আমি তো ওই খানে থাকি না আমি দূরে থাকি কি ভাবে জানতে পারবো যে সে থাকে কিনা যদি সে রাতে স্কুলে না থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিব।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু মোত্তালেব আলম বলেন আমি তো এই বিষয়ে কিছু জানিনা তবে আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম যদি রাতে সে স্কুলে না থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।