অনুসন্ধান প্রতিবেদন
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রিদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুর সরকারি নিয়ম অমান্য করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করে ৫০/ টাকা নিয়েছেন এবং আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১ বছরের জন্য প্রথেক ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০/ টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,মিশ্রিদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী দুই শিক্ষিকা সুহানা পারভিন ও মর্জিনা খাতুন এর বিরুদ্ধে ভর্তি করতে গেলে অভিভাবকদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ৫০/ টাকা নিয়ে ভর্তি করেন যদি ভর্তির টাকা না দেওয়া হয় তাহলে শিক্ষিকারা নাস্তা খাওয়াতে বলেন,এই অভিযোগ পাওয়া যায়।
অনুসন্ধান টিম মিশ্রিদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন আমরা স্কুলে আমাদের ছেলে মেয়েদের ভর্তি করতে স্কুলের ম্যাডামদের কাছে সব কিছু জমা দেয় এর পরে ভর্তি করার জন্য ৫০/ টাকা দাবি করেন, ৩০ টাকা দিলে ম্যাডামরা বলেন টাকা যদি কম দেন তাহলে আমাদের নাস্তা এনে খাওয়ান পরে নাস্তা খাওয়াতে টাকা বেশি লাগবে বিদায় ভর্তির জন্য ৫০/ টাকা দিয়ে দুই জনকে ১০০/ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি করেন,এর পরে আরো ১৫০/ টাকা দাবি করেন তখন টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন এক বছরের আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ এই ১৫০/ টাকা দিতে হবে আর যদি টাকা না দেন তাহলে আপনার ছেলে মেয়েদের দিয়ে ঝাড়ু ও পরিষ্কার করানো হবে তারা কোন কথা না বলে ১৫০/ টাকা জমা দিয়ে চলে আসেন।
অন্য এক অভিভাবক বলেন আমার শিশুকেও ভর্তি করার সময় ৫০/ টাকা নিয়েছেন এবং আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১৫০/ টাকা নিয়েছেন, আগে নিতো ১২০/ টাকা এবছরে ৩০/ টাকা বাড়িয়ে ১৫০/ টাকা করে নিয়েছেন। তারা বলেন কি কারণে আপনারা টাকা নেন টাকা তো নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই, তখন ম্যাডামরা বলেন এই টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে তাই নিয়েছি।অভিভাবকরা বলেন টাকা না দিলে মাস শেষ হলেই বাচ্চাদের বিরক্ত করে টাকা না দিলে শিশুদের সাথে খারাপ আচরণ করেন সব শিক্ষক।
আরেক অভিভাবক বলেন আমার শিশুকে ভর্তি করতে গেছি আমার কাছ থেকে ও ভর্তির জন্য ৫০/ টাকা আর আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১৫০/ টাকা নিয়ে ভর্তি করেছেন। অভিভাবকরা বলেন সরকারি স্কুলে যদি টাকা দিয়ে ভর্তি করতে হয়, তাহলে তো বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করা উচিত।
মিশ্রিদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকারা সবাই এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের ও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, প্রধান শিক্ষক সবার কাছ থেকে ১৫০/ টাকা আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিলের কথা বলে নিয়েছেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে এক বছরের জন্য যে টাকা আদায় করেন তার পরিমান ৩৭,৫০০/ টাকার ও বেশি এবং ভর্তি বাবদ ৫০/ টাকা করে নিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অমান্য করে টাকা আদায় করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকারা কি করেন কোন কোন খাদে খরচ করছেন তা সবার অজানা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে ভর্তির টাকা আদায় করা এবং আয়ার বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ টাকা নিয়েছেন তা সম্পন্ন ভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করেন।
প্রধান শিক্ষকের সাথে ফোনে কথা বলে জানা যায়, তিনি বলেন আমি ভর্তি করে টাকা আদায় করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক বছরের জন্য যে ১৫০/ টাকা আদায় করা হয়েছে তা সঠিক, তিনি বলেন জী টাকা আদায় করা হয়েছে ভুল হয়েছে, সরকারি ভাবে কোন নিয়ম নেই টাকা নেওয়ার আমি নিজের ইচ্ছায় ভর্তি করে ৫০/ টাকা করে নেওয়া হয়েছে এবং আয়ার বেতনের জন্য এক বছরের জন্য ১৫০/ টাকা আদায় করা হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ বিলের কথা বলি নাই।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান এর সাথে কথা বলতে ফোন দেওয়া হয়, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মিশ্রিদেয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির দ্বিতীয় প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে দেখতে চোখ রাখুন।