মো আবদুল করিম সোহাগ
ঢাকা
খুলনা জেলার বাগেরহাটে জন্ম রোজা খানের। পড়াশোনার শুরু মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলে। এরপর শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা এলএলবি হলেও তাঁর পথচলা গড়িয়েছে ভিন্ন এক জগতে—শোবিজের ব্র্যান্ড প্রমোশন অঙ্গনে।
শোবিজে অভিনয়, মডেলিং কিংবা উপস্থাপনা—পেশার অভাব নেই। তবু ব্র্যান্ড প্রমোশনকে কেন পেশা হিসেবে বেছে নিলেন এমন প্রশ্নে রোজা খান বলেন, এই পেশায় আসার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। বলা যায়, একেবারেই হুট করে আসা। তবে ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনের নাটক ও সিনেমা দেখার সময় ক্যামেরার প্রতি একটা আলাদা টান অনুভব করতেন তিনি। সেই ভালো লাগা আর আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁকে নিয়ে এসেছে এই জগতে।
প্রায় আট বছর আগে পেশাগত যাত্রার শুরু। বড় বোন অর্থাৎ কাজিনের নিজস্ব একটি ব্র্যান্ডের প্রমোশনের মাধ্যমে হাতে-কলমে কাজ শেখা। সেখান থেকেই ধাপে ধাপে পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন পেশাদার ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে।
দীর্ঘ এই সময়ে রোজা খান কাজ করেছেন দেশের পাঁচ শতাধিক নামী-দামী ব্র্যান্ডের সঙ্গে। তালিকায় রয়েছে সানবিস বাই তনী, নিকাহ বাই কিবরিয়া রাতুলসহ আরও অনেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। নিয়মিত কাজ, পেশাদার আচরণ এবং ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক উপস্থিতিই তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
নতুন যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের উদ্দেশে রোজা খানের পরামর্শ স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, ব্র্যান্ড প্রমোশন একটি ভালো ও সম্ভাবনাময় পেশা। তবে এখানে ধৈর্য থাকতে হবে এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা জরুরি। শুধু সামনে দাঁড়ানোই নয়, কাজটা আগে ভালোভাবে শিখতে হবে। নিজেকে তৈরি করলেই এই পেশায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশি নাটক দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়। গল্প, নির্মাণ ও অভিনয়ের দিক থেকে নাটক অনেক এগিয়েছে। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে নাটকে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ব্র্যান্ড প্রমোশন থেকে শুরু করে অভিনয়ের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে রোজা খান এগিয়ে যেতে চান আত্মবিশ্বাস আর অভিজ্ঞতার শক্তি নিয়েই।