তানজিদ শুভ্র
ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখবে যেসব পরিবেশবান্ধব উপহার
ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ মানেই শহরজুড়ে লাল গোলাপের সমারোহ। একদিকে বসন্ত বরণ আরেকদিকে ভ্যালেন্টাইন ডে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, যে গোলাপটি আজ আবেগের প্রতীক, দুদিন পরেই তা শুকিয়ে আবর্জনায় পরিণত হবে। ভালোবাসার প্রকাশ কি শুধুই ক্ষণস্থায়ী কিছুতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত? মোটেও না। ভালোবাসা যেমন শাশ্বত, উপহারও হওয়া উচিত দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব।
এবারের ভ্যালেন্টাইন ডে-তে গতানুগতিক উপহারের বদলে প্রিয়জনকে দিতে পারেন এমন কিছু, যা শুধু তাকে মুগ্ধই করবে না, বরং টিকে থাকবে দীর্ঘদিন। সম্পর্কের যত্ন আর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা দুটিই প্রকাশ পাবে এই উপহারগুলোতে। রইল কিছু ব্যতিক্রমী টেকসই উপহারের আইডিয়া।
লিভিং গিফট
সঙ্গীকে সাধারণ ফুলের তোড়া না দিয়ে দিতে পারেন একটি সুন্দর টেরারিয়াম। কাঁচের জারে সাজানো এই ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্রটি ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়ায়, তেমনি চোখের আরাম দেয়। এছাড়া সাকুলেন্ট, লাকি ব্যাম্বু বা মানিপ্ল্যান্টের মতো গাছ উপহার দেওয়া মানে সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। গাছটি যত বড় হবে, আপনাদের সম্পর্কের গভীরতাও তত বাড়বে। উপকার হবে পরিবেশেরও।
কাস্টমাইজড মৃৎশিল্প
প্লাস্টিকের শোপিস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে বেছে নিতে পারেন পোড়ামাটির তৈরি নান্দনিক সব উপহার। কাস্টমাইজড মাটির মগ, গয়না কিংবা ঘর সাজানোর শোপিস এখন তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এটি যেমন রুচিশীল, তেমনি দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসারও বহিঃপ্রকাশ। নামি-দামি শপে যেমন পাওয়া যায় তেমনি চলার পথেও এসব পসরা সাজানো দোকান পেয়ে যাবেন সহজেই। সাশ্রয়ী মূল্যেই হতে পারে ব্যতিক্রমী উপহার।
পরিবেশবান্ধব নোটবুক
সবসময় সব কথা প্রিয়জনকে বলা হয় না। কখনো নিজের ইনবক্সে থেকে যায় অনেক না বলা কথা। তার চেয়ে যদি একটা ডায়েরিতে জমা থাকে সেসব কথা, মন্দ কী? প্রিয়জনের জন্য সেরা উপহার হতে পারে হ্যান্ডমেড পেপারের ডায়েরি বা নোটবুক। রিসাইকেল করা কাগজ দিয়ে তৈরি এসব ডায়েরির মলাটে থাকতে পারে পাটের কাজ বা হাতে আঁকা আল্পনা। সঙ্গে দিতে পারেন বাঁশের তৈরি কলম। এটি যেমন ইউনিক, তেমনি পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
পাট বা ক্যানভাসের পণ্য
চামড়া বা রেক্সিনের ব্যাগের বদলে এখন ট্রেন্ডে আছে পাট বা ক্যানভাসের তৈরি টোট ব্যাগ, ওয়ালেট বা ল্যাপটপ স্লিভ। এগুলো যেমন স্টাইলিশ, তেমনি ওয়াশেবল বা ধুয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ব্যাগের ওপর প্রিয়জনের পছন্দের কোনো উক্তি বা আপনাদের বিশেষ কোনো তারিখ প্রিন্ট করিয়ে নিলে তা হয়ে উঠবে এক অনন্য স্মৃতি।
সবসময়ের সেরা বন্ধু ‘বই’
টেকসই উপহারের তালিকায় বই সবসময়ই শীর্ষে। ফুল শুকিয়ে যায়, চকলেট ফুরিয়ে যায়, কিন্তু একটি বই আজীবন থেকে যায়। প্রিয়জনের রুচি অনুযায়ী গল্প, কবিতা কিংবা নন-ফিকশন বই উপহার দিতে পারেন। বইয়ের প্রথম পাতায় নিজের হাতে দু-কলম লিখে দিলে উপহারের আবেদন বেড়ে যাবে বহুগুণ।
ভালোবাসা দিবসটি কেবল একদিনের উদযাপনের জন্য নয়, এটি সম্পর্কের গভীরতা অনুভবের দিন। তাই এমন উপহার বেছে নিন যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না এবং প্রিয়জনের কাছে আপনার স্মৃতিকে সজীব রাখবে বহুদিন। মনে রাখবেন, উপহারের দাম বা চাকচিক্য নয়, বরং এর পেছনের ভাবনা আর যত্নটুকুই আসল ভালোবাসা।