আবদুল করিম সোহাগ
বিনোদন ডেস্ক
ঢালিউডের কিংবদন্তি প্রায়ত অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি। বিটিভির স্বর্ণালি যুগ থেকে শুরু করে রূপালি পর্দায় একক আধিপত্য ছিল তার। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে যে কজন সহশিল্পীর সঙ্গে পর্দার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী ডলি জহুর। জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছে জনপ্রিয় নাটক ও সিনেমা।
শূন্যতায় ঘেরা ফরীদির জন্মদিন
আজ অভিনয়ের জাদুকার হুমায়ূন ফরীদি চলে যাওয়ার ১৪ বছর। বছর দুই আগে কিংবদন্তির মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন ডলি জহুর। ফরীদি জীবনের শেষদিকে নিঃসঙ্গতা হয়ে পড়লে নিজের প্রতি যত্ন নিতে না। শরীরের দিকে খেয়াল রাখতেন না। ফলে শরীর হয়ে উঠেছিল শুকনা কাঠের মতো।
ডলি জহুরের কথায়, ‘শেষের দিনগুলোতে ফরীদিকে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। শরীরের যত্ন নিত না, শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। মনে আছে, তখন আমি হানিফ সংকেতের ‘আপন নিবাস’ নামের একটি নাটকে কাজ করছিলাম। সেই নাটকে ফরীদিও ছিল। মাঝে বেশ কিছুদিন দেখা হয়নি, তাই জানতাম না ওর শরীরের অবস্থা কতটা খারাপ। যখন শুটিংয়ে এলো, আমি তো ওকে দেখে অবাক! এ কী শরীরের হাল! ঠিকভাবে হাঁটতেও পারছিল না। ওকে ধরাধরি করে গাড়ি থেকে নামানো হয়েছিল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, সামনে যে দাঁড়িয়ে সে কোনো মানুষ নয়, হ্যাঙ্গারে ঝোলানো একটি কাপড়!’
কেন হুমায়ুন ফরিদী-সুবর্ণা মুস্তাফার সংসার ভেঙেছি
অভিনেত্রী আরও বলে, “ফরীদিকে দেখে বলেছিলাম, ‘শরীরের এ কী হাল! শরীর নিয়ে কেউ এত অবহেলা করে?’ এই প্রশ্নের জবাবে মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলেছিল, ‘ও কিছু নয় ভাবি, সব ঠিক আছে।‘ কিন্তু আসলেই যে সবকিছু ঠিক নেই, তা বোঝা গিয়েছিল ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর। দেখা গেল, পরিচালক অ্যাকশন বলার পরও ফরীদি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছে না। যে মানুষ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক সংলাপ বলে যায়, সামনের মানুষগুলোকে বিস্মিত করে দেয় অনবদ্য অভিনয় দিয়ে- সেই ফরীদিই কথা বলতে পারছে না।’
সবশেষে ডলি জহুর বলেন, ‘একজন জাত অভিনেতা ক্যামেরার সামনে এভাবে থমকে যাবে এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি। তাই বুকে কষ্ট চেপেই অভিনয় করে গেছি। ‘আপন নিবাস’ নাটকে আমার একটি কান্নার দৃশ্য ছিল। বলতে দ্বিধা নেই, সেদিনের কান্না বাস্তব হয়ে উঠেছিল ফরীদির জন্য। যতটা না অভিনয়ের জন্য সেদিন কেঁদেছি, তার চেয়ে বেশি কান্না পেয়েছে ফরীদির কথা মনে করে।’
সালমান শাহের মৃত্যুর খবরে চিৎকার করে কেঁদেছিলেন হুমায়ূন ফরীদি
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকায় জন্ম ফরীদির। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ফরীদি ছিলেন দ্বিতীয়।
পড়ালেখা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ সবখানেই ছিল ফরীদির অবাধ বিচরণ। মঞ্চ দিয়েই শুরু তার পথচলা। প্রথম মঞ্চনাটক করেন কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। প্রথম মঞ্চনাটক নির্দেশনা দেন স্কুলজীবনে ‘ভূত’।
ফরীদি অভিনীত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘কান কাটা রমজান’ , ‘চানমিয়ার নেগেটিভ পজিটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’, তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘ভবের হাট’ ও ‘শৃঙ্খল’।
সোহেল রানা-ফারুক-জসীমসহ যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখেছিলেন
‘মাতৃত্ব’ সিনেমার জন্য ২০০৪ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান হুমায়ূন ফরীদি। ২০১৮ সালে পেয়েছেন মরণোত্তর একুশে পদক।