মোঃ সোলায়মান গনি, স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান মিড ডে মিল কর্মসূচির প্রথম সপ্তাহেই শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের খাবারের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরবরাহ প্রক্রিয়ায় রয়েছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা, যা শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীষণ অসন্তোষ তৈরি করেছে।
সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী:
সোমবার: বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম)
মঙ্গলবার: ফর্টিফায়েড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও মৌসুমি ফল বা কলা (১০০ গ্রাম)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও রবিবার: বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সেদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম)
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কুড়িগ্রামে কার্যক্রম শুরু হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে:
অনেক স্কুলে রুটিন অনুযায়ী খাবার পৌঁছায়নি
যেটুকু এসেছে, তার মান ছিল নিম্নমানের
রুটি শক্ত ও নষ্ট, কলা কাঁচা, এবং ডিম–দুধের সরবরাহ অনিয়মিত
চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুল হক বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের ৯৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ তারিখ ৭০ জনকে ডিম ও রুটি পেয়েছে। ১৯ তারিখ শুধু রুটি। এরপর থেকে কোনো খাবার নেই।”
যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, “কাঁচা কলা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনও খাওয়ার উপযোগী হবে না। ঠিকাদারের প্রতিনিধির বক্তব্য, কম দর নিয়ে কাজ করায় সরবরাহে সমস্যা হয়েছে।”
রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আইসল্যান্ড ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ ছাড়াই সরবরাহ শুরু করেছে। ২৫ নভেম্বর কাঁচা কলার অভিযোগ উঠার পর তারা সরবরাহ স্থগিত করেছে। ১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত খাবার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা ঠিকাদারের দায়িত্ব।”
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রায়হান জানান, “ময়মনসিংহ, রৌমারী ও রাজিবপুরে সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছি। অল্প সময়ে কার্যাদেশ পাওয়ায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে সবকিছু নিয়মমতো চলবে।”
জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “রৌমারী ও রাজিবপুরে অনিয়মের ঘটনা নজরে এসেছে। ঠিকাদার কোনো চুক্তিপত্র দেয়নি, সমন্বয়ও করেনি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, দেশের ৬২ জেলা ও ১৫০ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু আছে। কুড়িগ্রামের উলিপুর ও ফুলবাড়ী ছাড়া বাকি সাত উপজেলার প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায়।